সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম সিলেট সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যাত্রাবাড়ীর দুই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন বিসিসিআই সচিব কৃষিপণ্য আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইয়েমেনে সব ধরনের ইরানি পণ্য আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করল স্বীকৃত সরকার আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ: স্বচ্ছ তদন্তের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ধরে রেখেছে আমিরাত? ঢাকার যানজট ও হকার সমস্যা নিরসনই বড় চ্যালেঞ্জ: ডিএসসিসি প্রশাসক বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী শেভরন

রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম ঠাকুরগাঁও সফরে মির্জা ফখরুল, সাজসজ্জায় সেজেছে পুরো জেলা

Reporter Name / ৭ Time View
Update : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার এই দুই দিনের সরকারি সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় সাজসজ্জার ধুম পড়েছে। শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও স্থাপনা নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। রাস্তার ডিভাইডারগুলোতে রঙের কাজ, তোরণ নির্মাণ এবং আলোকসজ্জার মাধ্যমে শহরকে উৎসবমুখর করে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের নিবিড় কাজ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সফর সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তর ও সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের সম্ভাব্য পথ এবং কর্মসূচির স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সব কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তার অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি জেলা সার্কিট হাউজে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর তিনি শহরের সেনুয়া এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে বাবা সাবেক মন্ত্রী মির্জা রুহুল আমীন ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।

কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি কালীবাড়ির নিজ বাসভবনে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন। বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপর নিজ বাসভবনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে জেলার উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের আর উচ্চশিক্ষার জন্য জেলার বাইরে যেতে হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর তাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। আরেক বাসিন্দা বুলবুল আহমেদ জানান, এতদিন তারা তাকে ‘আলমগীর স্যার’ হিসেবে চিনলেও, এখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে নিজের শহরে স্বাগত জানাতে তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতি শুধু দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিই নন, তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। নিজের মানুষের কাছে তার এই ফিরে আসা জেলার মানুষের জন্য আবেগ ও গর্বের বিষয়।

পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে জেলায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির প্রতিটি কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও জেলার স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে।

রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো নতুন করে সামনে আসছে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও নিরাপত্তার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা