ইউএস ওপেনের ট্রফি হাতে নিয়ে জার্মান তারকা আলেকজান্ডার জভেরেভ ফিরে গিয়েছিলেন ২৪ বছর আগের এক স্মৃতিতে। চার বছর বয়সে তার শরীরে টাইপ-১ ডায়াবেটিস ধরা পড়লে চিকিৎসকরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, তার পক্ষে খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তবে সেদিন তার মা ইরিনা জভেরেভ সেই হতাশাজনক পরিস্থিতি মেনে নেননি। বরং অদম্য সাহসে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে। সে টেনিস খেলতে চাইলে টেনিসই খেলবে, অন্য কিছু করতে চাইলে তা-ই করবে। কিন্তু এই ব্যাধি আমাদের থামিয়ে দিতে পারবে না।’
মায়ের সেই অটল বিশ্বাস আর অসামান্য ত্যাগের ফসল হিসেবেই সোমবার ফ্লাশিং মেডোজে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতলেন ২৯ বছর বয়সী এই তারকা। ফাইনালে তিনি আমেরিকার বেন শেলটনকে ৬-৩, ৭-৬(২), ৫-৭, ৬-২ গেমে পরাজিত করেন। গত তিন মাসে দুটি বড় শিরোপা জিতে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিলেন টোকিও অলিম্পিকের এই সোনাজয়ী খেলোয়াড়।
জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় জভেরেভ বলেন, ‘সেদিন যদি মা শক্ত হয়ে না দাঁড়াতেন, তবে আজ আমি এই ট্রফি ছুঁতে পারতাম না। আমাদের পরিবারে দীর্ঘ ৩০ বছর কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি ছিল না। আজ সেই খরা কাটিয়ে এত অল্প সময়ে দুটি বড় শিরোপা জয় আমার কাছে ঐশ্বরিক কৃপার মতো মনে হয়।’
নিজের সাফল্যের পেছনে থাকা পুরো দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এই টেনিস তারকা। তার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাবা আলেকজান্ডার জভেরেভ সিনিয়র এবং বড় ভাই মিশা জভেরেভ। তিনি আরও বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তা দেখেছেন আমরা কতটা কষ্ট করেছি এবং কত ব্যথার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। অতীতে ঝরানো ঘাম আর অশ্রুর ফলই আজ আমরা পাচ্ছি।’
সাবেক পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় মা ইরিনা জভেরেভ সবসময়ই ছেলেকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন। ডায়াবেটিস যেন জভেরেভের স্বপ্নের পথে কোনোভাবেই বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য তিনি সবসময় ছিলেন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। মায়ের সেই সাহসেই আজ বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন এই জার্মান তারকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাইবার সুরক্ষা আইনে ফিরছে ডিএসএর ছায়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চলবে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডোপ টেস্ট ‘পজিটিভ’, পুলিশ সুপার সাময়িক বরখাস্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউএস ওপেন জিতে মায়ের জন্য আবেগে ভাসলেন জভেরেভ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কক্সবাজারে বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বহাল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চার বছরের এক শিশুর রক্তে ডায়াবেটিসের দুঃসংবাদ শুনে চিকিৎসকেরা সেদিন জানিয়ে দিয়েছিলেন—এই ছেলের জীবনের দৌড় খুব সীমিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সেই অন্ধকার দিনে এক মা হার মানেননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই বিশ্বাস আর লড়াইয়ের ফসল আজকের এই মহা সাফল্য।