রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আবারও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলো আদানির গোড্ডা কেন্দ্র তিন দশক পর কেন সক্রিয় হলো ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ ‘এলিয়েন টেররিস্ট’ আদালত? সবজির পর ডিমের বাজারেও অস্থিরতা, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন ইয়েমেনের হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলা: সৌদি আরবের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ হাইটেক পার্কের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা: অবকাঠামোর চেয়ে দক্ষ জনবল ও ইকোসিস্টেমের অভাব প্রকট কারা মহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শকের নতুন নিয়োগ বাতিল চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্টসহ মোহাম্মদ মহসিন গ্রেপ্তার হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান, কৌশলগত সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে দেখছে তেহরান

সিলেটে জৈন্তাপুরে সীমান্ত চোরাচালান: থানা পুলিশের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ‘লাইন ফি’ তোলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

অনলাইন ডেস্ক / ১১৮ Time View
Update : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলায় সীমান্ত চোরাচালানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এই অবৈধ কার্যক্রমে স্থানীয় থানা পুলিশের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জৈন্তাপুর মডেল থানার সীমান্ত পয়েন্টগুলো ব্যবহার করে রাতের আঁধারে প্রতিদিন শত শত ভারতীয় গরু, মহিষ, সুপারি, কসমেটিকস এবং চোরাই যানবাহন বা ‘বুংগাড়ি’ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই বিশাল অবৈধ বাণিজ্য নির্বিঘ্নে পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন রাতে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘লাইন ফি’ হিসেবে থানা পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। পুরো এই প্রক্রিয়ার তদারকি এবং টাকা সংগ্রহের পেছনে জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সওকত মাসুদ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। গরু ও মহিষের লাইন চালানের মাধ্যমে সংগৃহীত এই অর্থ তিনি নিয়মিত ওসির নিকট পৌঁছে দেওয়ার কাজটি সমন্বয় করেন। একই সাথে ভারতীয় নানা ধরনের অবৈধ মালামাল ও চোরাই যানবাহন চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম কিবরিয়ার হাতে। তিনি প্রতিদিন রাতে আনুমানিক ১ থেকে ২ লাখ টাকার অনৈতিক লেনদেন পরিচালনা করেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। থানার ভেতরে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা ওসির বিশেষ ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

এই পুরো সিন্ডিকেটের নেপথ্য পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান মোল্লার নাম উঠে এসেছে। সীমান্ত এলাকার সচেতন মহলের দাবি, পুলিশের এই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পণ্য ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, যার ফলে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত চোরাচালানি ও অপরাধী চক্র বেপরোয়া হয়ে ওঠায় পুরো জৈন্তাপুর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা