যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় ১৯৯৬ সালে গঠিত ‘এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’ বা ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী বহিষ্কার আদালত’ দীর্ঘ তিন দশক কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি এই আদালতকে পুনরায় সক্রিয় করেছে। এই আদালতের মূল লক্ষ্য হলো—সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে থাকা অভিবাসীদের দ্রুত দেশ থেকে অপসারণ করা। তিন দশক পর সক্রিয় হওয়া এই আদালতের প্রথম মামলার শিকার হয়েছেন আফগানিস্তানের নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী নাজিরা হাজি জাদা। টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে বসবাসকারী নাজিরার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বিচার বা দণ্ডাদেশ না থাকলেও, মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি তার পরিবারের সদস্যদের উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত হতে সহায়তা করেছেন এবং হামলার ষড়যন্ত্র গোপন রাখতে ভূমিকা রেখেছেন।
নাজিরার ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা ও জামাতা নাসির আহমদ তাওহেদি ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন ইসলামিক স্টেট (আইএস) অনুপ্রাণিত একটি গুলিবর্ষণের ষড়যন্ত্রের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন নাজিরাকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করে। যদিও নাজিরা অপসারণের চ্যালেঞ্জ না করে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে তার আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তকে আদালতের বৈধতা মেনে নেওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন। নাজিরার আইনজীবীদের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত গোপন প্রমাণগুলো তাদের বা নাজিরাকে দেখতে দেওয়া হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি-ভিত্তিক ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্যমতে, ১৯৯৫ সালে ওকলাহোমা সিটিতে বোমা হামলার পর মার্কিন ফৌজদারি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ব্যাপক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই বিশেষ আদালতটি তৈরি করা হয়েছিল। এর পেছনে তৎকালীন ‘এলএ এইট’ নামে পরিচিত আট অভিবাসী কর্মীকে বহিষ্কারের প্রচেষ্টাও ভূমিকা রেখেছিল, যেখানে গোপন প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারের বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দেয়। সাধারণত সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিচার নিয়মিত ফেডারেল ফৌজদারি আদালতে হলেও, এই বিশেষ আদালতটি কিছু ক্ষেত্রে সরকারকে বাড়তি সুবিধা দেয়। এই আদালতে পাঁচজন ফেডারেল বিচারক থাকেন এবং এতে ‘প্রিপন্ডারেন্স অব দ্য এভিডেন্স’ বা অভিযোগ সত্য হওয়ার সামান্যতম সম্ভাবনা থাকলেই তা অপসারণের জন্য যথেষ্ট বলে গণ্য হয়, যা সাধারণ ফৌজদারি বিচারের ‘বিয়ন্ড আ রিজনেবল ডাউট’ মানদণ্ডের চেয়ে শিথিল।
এই আদালতের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত দিক হলো গোপনীয় তথ্য ব্যবহারের সুযোগ। সরকার যদি জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে কোনো প্রমাণ গোপন রাখতে চায়, তবে তা অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তার আইনজীবীদের কাছ থেকেও আড়াল করা সম্ভব। এমনকি বিচারক যদি মনে করেন যে প্রমাণের সারসংক্ষেপ প্রকাশেও গুরুতর ক্ষতি হতে পারে, তবে তাও গোপন রাখা যায়। যদিও অভিযুক্তের আইনজীবী নিয়োগ বা সাক্ষীকে জেরা করার সুযোগ রয়েছে, তবুও সাধারণ অভিবাসন আদালতের তুলনায় এখানে প্রমাণের মানদণ্ড অনেক কম। এছাড়া এই আদালতের বিচারকরা সাধারণত আশ্রয় বা নির্দিষ্ট ধরনের বহিষ্কার প্রতিরোধের আবেদন আমলে নিতে পারেন না, যদিও নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা এখানে কার্যকর হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কারের জন্য ১৭৯৮ সালের আইনের মতো পুরোনো পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে নিয়মিত আদালতের আইনি জটিলতা এড়াতে এই বিশেষ ‘সন্ত্রাসী বহিষ্কার আদালত’ একটি বিকল্প হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। নাজিরার ক্ষেত্রেও মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই সফল বহিষ্কারকে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু সমালোচকদের মতে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তৃত আইনি সংজ্ঞার সঙ্গে প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতি যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে এই আদালতের ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই আদালত শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতির স্থায়ী হাতিয়ার হয়ে ওঠে কি না এবং এর সাংবিধানিক ভিত্তি আদালতে টিকে থাকবে কি না। এ ছাড়া ২৫ বছরের মার্কিন যুদ্ধে ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের এই ধারা কতটুকু যৌক্তিক তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট থেকে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ফিলিস্তিনের পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট বহিষ্কারের মামলায় গোপন তথ্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পাঁচটি আলাদা বিচারিক সার্কিট থেকে তাদের নির্বাচন করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আদালতে কাউকে অপসারণের প্রক্রিয়া মূলত দুই ধাপে চলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযুক্ত ব্যক্তিও সরকারের যুক্তি ও প্রমাণের বিরোধিতা করার সুযোগ পান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে তিনি সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট অভিবাসীর কাছে প্রকাশ করতে পারবেন না।