দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। গত শনিবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির দীর্ঘ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পটভূমি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
এর আগে গত ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচন আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে। জাতীয় সংসদে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তিনিই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
স্থায়ী কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এবং সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আগামী বছরের জানুয়ারির আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন বাস্তবসম্মত নয় বলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মত দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের আসন্ন বাংলাদেশ সফর নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করার পরই দলটি তাদের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও তৃণমূলের প্রস্তুতি
এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেয়র ও পদগুলোতে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। কেন্দ্র থেকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন স্থানীয় পর্যায়ে সব কোন্দল ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে এই একক প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।