প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে একটি প্রতারণার মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে নিম্ন আদালতে কয়েক দফা জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর উচ্চ আদালত থেকে এই স্বস্তি পেলেন তিনি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি নিয়ে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মোশাররফ হোসেন সিকদার নামে এক ব্যবসায়ী মামলাটি দায়ের করেন। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার বিদিশার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে দিতে বলা হয়। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা হস্তান্তর করা হয়নি। পরবর্তীতে ফ্ল্যাট বুঝে পেতে চাপ প্রয়োগ করলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। তবে বাদীর অভিযোগ, বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে শেষ পর্যন্ত টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি।
এই মামলায় গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় বিদিশা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর ২৫ আগস্ট রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন। তবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত সেই আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির বিদিশার আপিল গ্রহণ করলেও জামিন আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। অবশেষে উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি জামিন পেলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজ ৬ আগস্ট (রোববার) বিচারপতি মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর ২৫ অগাস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লোক মারফত তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর চার দিন বাদে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতার সহধর্মিণী বিদিশা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল।