বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘটনার তদন্তে পুলিশ আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে এলপিজির দাম ও চার্জ না বাড়াতে ক্যাবের দাবি উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাই হাট: জমে উঠেছে পঞ্চগড়ের দেবদারুতলা ইরানের হুমকি দূর করতে শক্তিশালী ডানপন্থি সরকারের আহ্বান নেতানিয়াহুর

ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনরা। বিশেষ করে, মৃত রোগীর মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পেতে হিমশিম খাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির ঢামেক শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর আগে সোমবার সংগঠনটির একাংশের সদস্যরা হাসপাতালের বাগান গেটের ভেতরে স্থায়ী পার্কিং ও সুনির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছিলেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির ঢামেক শাখার উদ্যোগে এ ধর্মঘট শুরু হয়। এদিকে ধর্মঘটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি শাহাদাত হোসেন জানান, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পার্কিং বন্ধ করে দেওয়ার কারণে তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে বাইরের সড়কে রাখতে হচ্ছে, যা পুলিশের সাথে নানা জটিলতা সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করে সেবা দিয়ে আসলেও এখন নতুন করে পার্কিংয়ের সুযোগ না পাওয়ায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হঠাৎ পার্কিং বন্ধ করে দেওয়ায় সেবাও বন্ধ রেখেছেন।

তবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জায়গা সংকটের কারণে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কোনোভাবেই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের স্থায়ী পার্কিংয়ের অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, জরুরি বিভাগের সামনে যানজট নিরসন, হাসপাতালের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রোগীদের স্বজনদের দুর্ভোগ কমাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অ্যাম্বুলেন্সই আর পার্ক করে রাখা যাবে না। অ্যাম্বুলেন্সগুলো কেবল রোগী নামিয়ে দিয়ে দ্রুত প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাবে এবং প্রয়োজনে রোগী বহনের সময় পুনরায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে। এছাড়া জরুরি বিভাগের সামনে মালিক সমিতির ব্যবহৃত একটি অস্থায়ী কক্ষও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে দূর থেকে আসা রোগীদের স্বজনদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হবে।

পরিচালক আরও সতর্ক করে বলেন, রোগীদের জিম্মি করে ধর্মঘট চালানো বা সড়কে অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক সময় হাসপাতালের আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে না জেনে রোগীর স্বজনরা বাইরের অসাধু চক্রের দ্বারা প্রতারণার শিকার হন, যা ঠেকাতেও কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। ধর্মঘটের ফলে অ্যাম্বুলেন্স সংকটে পড়া রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা