ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা আকস্মিক ও দ্রুতগতির অভিযান চালিয়ে একের পর এক শহর দখল করে নিয়েছে। এসব এলাকা এতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই সংঘাতের ফলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন এবং কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় ত্রাণকর্মীদের বরাতে জানা গেছে। অনেক গ্রাম এখন জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং বহু পরিবার সম্মুখসারির কাছে আটকা পড়ে খাদ্য সংকটে ভুগছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, তাইজ ও হোদেইদাহ প্রদেশে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আইওএমের মুখপাত্র জো লোরি জানান, ঘরবাড়ি ছেড়ে আসা মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। বাস্তুচ্যুতদের জন্য জরুরি আশ্রয়, নগদ সহায়তা, খাবার, নিরাপদ পানি ও চিকিৎসা সেবা এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগর মোখা দখলের বিষয়টি এই অভিযানের অন্যতম বড় দিক। শহরটি বিশ্বব্যাপী কফি বাণিজ্যের জন্য পরিচিত। শহর থেকে পালিয়ে আসা বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ছিল প্রলয়ঙ্কর। অনেকে পালানোর সময় সশস্ত্র দলগুলোর লুটপাটের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কেউ মোটরসাইকেলে করে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে হুতিদের প্রভাব ও শক্তি ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে উপকূলের দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের মাধ্যমে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে সরাসরি উপস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। প্রায় ২০ মাইল প্রশস্ত এই জলপথ এশিয়া ও ইউরোপকে সংযুক্তকারী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট। হুতিরা এই পথ বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে, কারণ তখন জাহাজগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
ইয়েমেনের এই সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৮০ ডলারের কাছাকাছি থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইয়েমেনে আবার পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। উল্লেখ্য, আগের যুদ্ধে প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছিলেন। এছাড়া, ২৫ বছরের মার্কিন যুদ্ধে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষের মৃত্যু এবং ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাহাড়ি সবুজ ঢাল পেরিয়ে এসব এলাকা শুষ্ক উপকূলীয় সমভূমিতে গিয়ে মিশেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেক পরিবারের জন্য এটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো বাড়িঘর ছাড়ার ঘটনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি জানান, অনেকে শহর ছেড়ে নিজেদের মালপত্র নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘নতুন করে সম্মুখসারির যুদ্ধ, বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছেন বেসামরিক মানুষ।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে দেশটির থেমে থেমে চলা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চকলেটের স্বাদের কফির নামও এই শহরের নাম থেকে এসেছে।