জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী জাতিসংঘের সাথে সম্পৃক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কনসালটেটিভ স্ট্যাটাসধারী বেসরকারি সংস্থা ‘এমসিআইএফকে’-র শান্তি ও শুভেচ্ছা দূত হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। আগামী দুই বছরের জন্য তিনি এই আন্তর্জাতিক সংস্থার হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানুষের ক্ষমতায়ন ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিচিত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগপত্র প্রদান করা হয় এবং তাকে মানবিক ও সামাজিক কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে আয়োজিত ‘সেলিব্রেটি রেড কার্পেট গালা অন ফ্যাশন উইক’-এ রবি চৌধুরীকে সম্মানজনক ‘প্লাটিনাম হুস হু দ্য আলটিমেট ইন অ্যাচিভমেন্ট’ পদক প্রদান করা হয়। বৈশ্বিক প্রভাব, নেতৃত্ব এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিল্পী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে যুক্ত হওয়া একজন শিল্পী হিসেবে অত্যন্ত সম্মান ও আনন্দের বিষয়। এটি তাকে সংগীতের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করবে। একই সাথে তিনি এমসিআইএফকে-র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মনিকা সানচেজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময়ের সংগীত ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালের ২৮ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিনে ‘প্রেম দাও’ অ্যালবামের মাধ্যমে। তবে পেশাদার সংগীত জীবনের আগে থেকেই তিনি সুরের ভুবনে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসে তিনি তার প্রথম বাণিজ্যিক স্টেজ শো করেন। সেই আয়োজনে তার গাওয়া প্রথম গান ছিল ‘বিয়ে করতে উকিল লাগে’।
চট্টগ্রামের এই শিল্পী নিজের মেধা ও সৃজনশীলতা দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, দুবাই, ফ্রান্স, জাপান ও কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্টেজ শো করে তিনি অগণিত শ্রোতার ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে আজও তিনি সমানতালে বিভিন্ন মঞ্চে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে যাচ্ছেন। এই নতুন আন্তর্জাতিক দায়িত্ব তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করল।