প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান জাতিসংঘে তার ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে পি-৩ পজিশনে নিযুক্ত হয়েছেন। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এ কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এর বাইরে সাধারণত যে ধরনের অত্যাবশ্যকীয় নিরাপত্তা কর্মী, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা থাকেন, কেবল তারাই উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে মাহ্দী আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যের বিষয়ে বলেন, আপনারা নিজেরাই বলছেন যে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট করা দরকার। বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে কোনো চাকরি দেয়া হয়নি। এমনকি জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনেও তার কোনো পদায়ন হয়নি। তিনি সরাসরি জাতিসংঘের সদরদপ্তরে, ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। এই ধরনের সফলতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। সেখানে টেকনোলজি, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে জাতিসংঘের বাইরে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁদের ধারাবাহিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়মকানুন ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার অধীনে তাদের নির্বাহী কার্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্সেস টিম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই আন্তর্জাতিক নিয়োগটি সম্পন্ন করেছে। তার নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আর্থিক সুবিধাদি জাতিসংঘ সরাসরি বহন করে, যেখানে সরকারের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা থাকার অবকাশ নেই। যে কেউ চাইলে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখলেই এই পদের যাবতীয় তথ্য ও নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারবেন। এর ওপরে পি-৪, পি-৫ বা ডিরেক্টর লেভেলের উচ্চপদ রয়েছে।
মাহ্দী আমিন জানান, জাতিসংঘের প্রফেশনাল কাঠামোতে পি-১ হলো নতুন স্নাতকদের জন্য, পি-২ এর জন্য ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা লাগে এবং পি-৩ পদের জন্য প্রয়োজন হয় অন্তত পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতা। জাইমা রহমান তার ব্যক্তিগত মেধা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই পি-৩ পজিশনে জায়গা করে নিয়েছেন। অতীতে রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে পদায়ন কিংবা প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্তির যে সংস্কৃতি দেখা যেত, তিনি তা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধিদলেরও কোথাও সম্পৃক্ত হননি। নিজের মেধার জোরে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন অবস্থানে পৌঁছানোকে বরং সাধুবাদ জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। আমরা টার্কিশ এয়ারওয়েজে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাই এবং ফেরার সময় এমিরেটস এয়ারলাইন্সে দেশে ফিরে আসি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বহরে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সফর করেছেন। সফরকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় ৮০টির অধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘে অত্যন্ত ব্যস্ত ও কার্যকর সময় অতিবাহিত করেছেন। তিনি মোট ৮টি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ৩টিতে বক্তব্য রাখেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ উইমেন লিডার্স প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়ার্ল্ড ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান ও স্বাস্থ্য দর্শন তুলে ধরেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকারের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বৈশ্বিক মঞ্চে বলিষ্ঠ পদচারণাকে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক বিশাল অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র ৩৫ জন, যার মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ পদমর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও পুরো সফরজুড়ে এই চার দিনে প্রায় ৫০টির মতো পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।