রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সংকটের মূল কারণগুলো মিয়ানমারেই সমাধান করতে হবে, যাতে শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে পারে। ঢাকার কমিটিগুলো পুনর্গঠনে সতর্ক বিএনপি, নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণরাও বিবেচনায়। বিচারপতিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশে নেই কোনো আইনি কাঠামো।
সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’। ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই আয়োজনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জনের বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। সম্মেলনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ও মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, গবেষক ও কূটনীতিকরা অংশ নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে নীতিগত নিশ্চয়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেবে। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’। এ কর্মসূচি শুরু হবে সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে দিয়ে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে। চূড়ান্তভাবে ‘ইউনিভার্সেল কার্ডের’ মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন।
তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা কেবল সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের উপযোগী করে গড়ে তোলার মাধ্যম হতে হবে। প্রথম শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ ও মিড-ডে মিলের পাশাপাশি বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রূপপুরের পথে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার পাশাপাশি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রসারে কৃষিকে মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরির মধ্যে ৫৩টিই বাংলাদেশে অবস্থিত, যা দেশের শিল্প খাতের সবুজ রূপান্তরের প্রমাণ।
সবশেষে, বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখার নীতিতে অটল বলে তিনি পুনরুল্লেখ করেন। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।