ঢাকার ধামরাই পৌরসভার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়-ব্যয়, রাজস্ব আদায়, উন্নয়ন প্রকল্প ও ঠিকাদারি কাজের বিস্তারিত বিবরণ জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর ভবনে এ আবেদনটি জমা দেওয়ার পর সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন দলটির নেতৃবৃন্দ। পৌরসভা এনসিপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে এই আবেদনপত্রটি দাখিল করেন।
আবেদনের মাধ্যমে পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু, বিভিন্ন ফি, ইজারা আদায় এবং নিজস্ব সম্পত্তি ভাড়া থেকে অর্জিত আয়ের তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, প্রশাসনিক ব্যয়, রাস্তা-ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন, উন্নয়ন প্রকল্প ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতের ব্যয়ের তথ্য চাওয়া হয়। এছাড়া সব উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ, টেন্ডার প্রক্রিয়া, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, চুক্তিমূল্য, কার্যাদেশ, পরিশোধিত বিল ও কাজের বর্তমান পরিস্থিতির তথ্য এবং অডিট প্রতিবেদন ও অডিট আপত্তির তথ্য প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট হিসাবের নথি, ভাউচার ও টেন্ডার ফাইল পরিদর্শনের সুযোগও চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পৌর এনসিপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বলেন, ধামরাই একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। পৌরসভার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা আরও গতিশীল করতে আয়-ব্যয়ের তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের অর্থ কোথা থেকে আসে এবং কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়, তা জানা নাগরিকদের অধিকার। এসব তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে পৌরসভার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বৃদ্ধি পাবে।
আবেদনটি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে ধামরাই পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম নবী জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়কের তথ্য অধিকার আইনে করা আবেদনটি আমরা গ্রহণ করেছি। পৌর প্রশাসকের স্বাক্ষর পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীর কাছে কাঙ্ক্ষিত সব তথ্য পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি ঢাকা জেলা উত্তরের যুগ্ম সদস্য সচিব ইসরাফিল ইসলাম খোকন, ধামরাই পৌরসভা এনসিপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ নাজমুল হক, মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আলী আহসান তন্ময়, যুব শক্তি ধামরাই উপজেলার আহ্বায়ক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, সামিউল ইসলাম লিমন, কাউসার আহমেদ এবং সারোয়ার জাহান সিদ্দিকীসহ পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।