বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল চালডালের যশোর অফিস মাদুশাঙ্কার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা আইজিপির বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করবে: রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত বাগান করলে কমে মৃত্যুঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ আইজিপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: জাহেদ উর রহমান

রাজধানীর বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ছে, কমেছে ডিমের দাম

Reporter Name / ১২ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শীতকালীন সবজির সমাগম বাড়ছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও শিমের মতো শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ার ফলে পুরোনো অনেক সবজির দাম কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার, রামপুরা, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে আসা নতুন সবজির মধ্যে শিমের দাম এখনো চড়া। বাজারভেদে শিম প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে প্রায় ২০ টাকা কম। প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারে ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোলের কেজি ৮০ টাকা। বেগুন ও কাঁকরোলও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। আগাম মুলা ও ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে পেঁপে ৩০ টাকা ও মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা কেজি হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে মিলছে। প্রতিটি লাউয়ের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো সবজি হিসেবে লম্বা বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে কেনা যাচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ ধরে শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে এর সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দামও কমছে। ক্রেতা সৌরভ আহমেদের মতে, লাউ ও পেঁপে তুলনামূলক সস্তা হলেও টমেটো ও শিমের দাম এখনো বেশি।

সবজিতে স্বস্তি মিললেও মুরগির বাজারে উত্তাপ বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারে ব্রয়লার ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। কোনো সপ্তাহে ১০ টাকা কমে, আবার পরের সপ্তাহে বাড়ে। সোনালি মুরগির দামও সাধারণত ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে থাকে।

রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, খামার পর্যায়ে মুরগির সরবরাহ কিছুটা কম। পোলট্রি খাদ্য ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আড়তদারদের বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। বিক্রেতা মনির হোসেন জানান, ব্রয়লার মুরগির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।

মুরগির দাম বাড়লেও ডিমের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে ডজনপ্রতি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া ফার্মের বাদামি ডিম এখন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বাজারভেদে বাদামি ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে অবশ্য হালি প্রতি ৪৬ থেকে ৫০ টাকাও দাম রাখা হচ্ছে। স্বস্তি ফিরেছে ডিমের বাজারে; এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আড়তে ডিম মজুত করে রাখার সুযোগও নেই।

ডিম বিক্রেতা আবু হেলাল জানান, গত সপ্তাহে ১৫০ টাকা ডজন দরে বাদামি ডিম বিক্রি করলেও এখন তা ১৪০ টাকায় নেমেছে। ব্যবসায়ী আসাদুল্লাহর মতে, সরকারি তদারকির কারণে পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। ছুটির দিনে চাহিদা কম থাকায় দাম কমেছে এবং সামনে তা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থেকে প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন নেই। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২২০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৮০০ টাকা ও চিংড়ি ৮০০-১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, রুই ৪৫০-৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, বাইম ৬০০-৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। পোয়া মাছ ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতা মোস্তাকিন জানান, মাছের দাম চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। জীবিত ও মৃত মাছের আকারভেদে দামের পার্থক্য থাকে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের কেজি ১০০০ টাকার উপরে থাকতে পারে।

দুর্গাপূজার টানা ছুটির কারণে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিও কম লক্ষ্য করা গেছে। তবে চাল, ডাল ও তেলের মতো নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য এখনো বাজারের চাপ ধরে রেখেছে। শীতের সবজি বাজারে আসার পর সামগ্রিকভাবে কিছুটা স্বস্তি ফেরার আশা করছেন সাধারণ ক্রেতারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা