শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে কলির সাফল্য রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নিখোঁজ কিশোর রিকশাচালকের সন্ধান মিলল ধানক্ষেতে নেত্রকোনায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল শূন্য এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেল ৪০ হাজার জামায়াত আমির |: বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণই জামায়াতের লক্ষ্য এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল বোর্ডের বড় বিপর্যয়: সেরা থেকে সর্বনিম্ন যশোর বোর্ডে এইচএসসি ফলাফল: পাশের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষার বিশেষ সুযোগ ঘোষণা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, জোরদার প্রচারণা ধ্বংসস্তূপে গাজার বাসিন্দাদের টিকে থাকার লড়াই ও একে অপরকে সান্ত্বনা

রাজধানীর বাজারে শীতের সবজির চড়া দাম, অস্বস্তিতে সাধারণ ক্রেতারা

Reporter Name / ২ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে শীতকালীন সবজির আগমন ঘটলেও আকাশছোঁয়া দাম ক্রেতাদের নাভিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাজার ঘুরে দেখা যায়, নতুন সবজির স্বাদ নিতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। নতুন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায় এবং দেশি টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে। অধিকাংশ সবজিই বর্তমানে ৬০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে সবজির দামের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা। ক্রেতা আবু বক্কর জানান, গণমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজির দাম কম থাকার খবর দেখা গেলেও রাজধানীর বাজারে লাউ কিনতে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় বাজারের অধিকাংশ সবজির দামই এখন ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে। সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম ১০০ টাকা ছাড়ালেও কয়েকটি সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির বিস্তারিত দরদামে দেখা যায়, ঝিঙা ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং শিম ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ ও পটোল ৬০ টাকায় পাওয়া গেলেও কিছুটা স্বস্তিতে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া, যা যথাক্রমে ৩০ ও ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা এবং জলপাই ৮০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী শাহ আলম সবজির এই চড়া দামের বিষয়ে বলেন, সাধারণত বাজারে যখন নতুন পণ্য বা সবজির মৌসুম শুরু হয়, তখন প্রাথমিক অবস্থায় দাম কিছুটা বেশি থাকে। তবে সবজির পাশাপাশি মাছ ও মুরগির বাজারও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারে প্রতি ডজন বাদামি ব্রয়লার মুরগির ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও উচ্চমূল্যের প্রভাব স্পষ্ট। রুই ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা, বায়লা ৫৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে বড় আকারের মাছের দাম আকাশচুম্বী। বড় কাতল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং মাছের দাম ১০০০ টাকা এবং বড় চিংড়ির দাম ১৪০০ টাকা কেজি। সাগরের পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজিতে। অন্যদিকে বড় আকারের কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল জানান, সামুদ্রিক মাছের দাম সব সময় বেশি থাকে এবং হাজার টাকার নিচে এসব মাছ বিক্রি করা সম্ভব হয় না। চাষের মাছের দামও এখন ২০০ টাকার ওপরে। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা আজাদ রহমান জানান, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে মাছের দাম অন্যান্য জায়গার তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে দাম বেশি হলেও এখানে তুলনামূলক তরতাজা মাছ পাওয়া যায় বলে তারা এখানেই বাজার করতে আসেন। সার্বিকভাবে নিত্যপণ্যের এমন চড়া দাম স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা