শনিবার বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ফলাফল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশ, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত এক দশকে এইচএসসির ফলাফলে বড় ধরনের উত্থান-পতন ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে পরীক্ষা না নিয়ে সবাইকে অটোপাস দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যতিক্রমী বছরটি বাদে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাসের হার ৭৫ থেকে ৯৫ শতাংশের ঘরে সীমাবদ্ধ ছিল। এর আগে ২০১৬ সালে ৭২ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৬৬.৬৭ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬৪.৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। সেবার সবাইকে অটোপাস দিয়ে দেওয়ায় কেউ ফেল করেনি।
পরবর্তী বছরগুলোতে সাফল্যের ধারা বজায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ফলাফলে বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৯ সালে পাসের হার ছিল ৭২ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯৫.৫৭ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৪.৩১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪.৬৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫.৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী সফল হয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২০২৫ সালে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৫৭.১২ শতাংশে নেমে আসে, যেখানে প্রায় ৪৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৭২ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৬৬.৬৭ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৬৪.৬৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭২ শতাংশ, ২০২০ সালে ১০০ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯৫.৫৭ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৪.৩১ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪.৬৭ শতাংশ। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ফলাফলে ধস নামে।
ফলাফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে তা জানার সুযোগ পেয়েছেন। মোট তিনটি ভিন্ন উপায়ে পরীক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এবারের এই নিম্নমুখী ফলাফল দেশের শিক্ষাখাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিক সাফল্যের তুলনায় যা বড় ধরনের ছন্দপতন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।