রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার দৌড়ে ৫টি বোর্ডকে পেছনে ফেলল নটরডেম দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া এখন পুলিশ ক্যাম্প এইচএসসির ফল প্রকাশ: পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৯৬.৫১ শতাংশ ৪ নভেম্বরের মধ্যে ইরানে নতুন মার্কিন হামলার শঙ্কা প্রাথমিক স্তরে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি লার্নিং টয় চালুর উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে কলির সাফল্য রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নিখোঁজ কিশোর রিকশাচালকের সন্ধান মিলল ধানক্ষেতে নেত্রকোনায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল শূন্য এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেল ৪০ হাজার

বিচার বিভাগের বড় চ্যালেঞ্জ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

Reporter Name / ৪ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

বিচার বিভাগের ভবিষ্যতের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এআই ব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করার সক্ষমতা বিচারকদের জন্য বড় বিপত্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ সামলাতে বিচারকদের বিচারিক কাজে অধিকতর দক্ষতা ও সচেতনতা প্রদর্শনের তাগিদ দেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালও কোনো কোনো আসামির ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো কর্মকর্তা সকাল ১১টার দিকে কাজে এসে দুপুর ২টা বা ৩টার মধ্যে চলে যান-এমন প্রতিবেদন তাঁদের কাছে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো বিচারক আয়েশি কর্মপদ্ধতিতে অভ্যস্ত হলে তাঁকে এমন জায়গায় পদায়ন করা হবে, যেখানে তিনি আয়েশ করে চাকরি করতে পারবেন—এমন মন্তব্যও করেন আইনমন্ত্রী।

বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এই নতুন আদালতের মূল লক্ষ্য। এর আগে দেশে ই-পারিবারিক আদালত চালু হয়েছে এবং ই-বেইল বন্ডের সুফলও জনগণ পাচ্ছেন বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও হাজিরার আইনি কাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আসামিকে কারাগার থেকে আনা-নেওয়ার পেছনে যে বিশাল অর্থ ও জনবল ব্যয় হয়, ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে চালু করতে পারলে তা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এ জন্য যানবাহন ও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনে বিপুল অর্থ ও জনবল ব্যয় হয়। আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা গেলে বিচার বিভাগে আরেকটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশে বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ২ হাজার ৩০০ জন বিচারকের পক্ষে নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত দুরূহ একটি পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে মামলার চাপ সবচেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষ ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে সক্ষম বিচারকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। মন্ত্রী এ সময় দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো কর্মকর্তার কাজে ফাঁকি দেওয়ার প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।

আয়েশি কর্মপদ্ধতি গ্রহণকারী বিচারকদের সতর্ক করে মন্ত্রী জানান, যারা দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহী, তাদের এমন জায়গায় বদলি করা হবে যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন।

বিচার বিভাগকে মানুষের আস্থা ও ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, বিচারকদের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মনে যেন কোনো সংশয় তৈরি না হয়।

অনুষ্ঠানে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী, জেলা পিপি ইকবাল হোসেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা