সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ: স্বচ্ছ তদন্তের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ধরে রেখেছে আমিরাত? ঢাকার যানজট ও হকার সমস্যা নিরসনই বড় চ্যালেঞ্জ: ডিএসসিসি প্রশাসক বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী শেভরন ঢাকার দুই সিটিতে নাসির ও আসিফকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির ভারত নিয়ে সবসময় চিন্তার দরকার নেই, নিজেদের কথাও ভাবতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সাংবাদিকের মৃত্যু প্রেক্ষাপট: সায়মা ওয়াজেদের ডব্লিউএইচওর পদে নিয়োগ সঠিক প্রক্রিয়ায় হয়নি জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ইয়েমেনের জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত, হুথিদের সমর্থনে বার্তা ইরানি নেতৃত্বের

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Reporter Name / ১৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আত্মঘাতী নীতি, অদূরদর্শিতা এবং দলীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার প্রবণতাকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকার তাদের অনুগত ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে বিদেশ-নির্ভর জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছিল, যা দেশের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক পরিসরে গালফ ওয়ারের মতো পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দামে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কৃষকদের স্বার্থে গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে সেচ কাজের জন্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। পরবর্তীতে সীমান্ত এলাকায় পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে পুনঃনির্ধারণ করা হয়। সরকার সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি করের বোঝা না চাপিয়ে আর্থিক চাপ কমানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমুদ্রে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপন সময়সাপেক্ষ হলেও সরকার দ্রুত পদক্ষেপে বিশ্বাসী। মাতারবাড়িতে চীন সরকারের সাথে ‘জি টু জি’ চুক্তির আওতায় তৃতীয় এফএসআরইউ ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে একটি ল্যান্ড-বেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো থেকে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য শত কিলোমিটারের অ্যাডভান্সড পাইপলাইন নির্মাণের প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান চলমান রয়েছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে তিনি জানান, দেশীয় কয়লার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বড়পুকুরিয়ার দেশীয় কয়লা ব্যবহার করে ৬০০ মেগাওয়াটের নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া বৈশ্বিক আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়ের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সঞ্চালন লাইনের ঘাটতি থাকলে সরকার নিজস্ব জিওবি তহবিল থেকে অর্থায়ন করে তা নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছে।

জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেশীয় অনশোর ও অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বর্তমান সরকার জোরদার করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোলায় গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ সচল করা হয়েছে এবং সেখানে ফার্টিলাইজার ইন্ডাস্ট্রি ও নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এলপিজির চাহিদা মেটাতে মাতারবাড়িতে টার্মিনাল ও স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস খালাসের জন্য ভাসমান সিবিএস প্রযুক্তির টার্মিনাল স্থাপনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বিরোধী দলের উত্থাপিত সময়সীমার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর জ্বালানি ব্যবস্থা রাতারাতি পরিবর্তন করা কঠিন হলেও প্রধানমন্ত্রী মাত্র ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তনের যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা কার্যকর হতে শুরু করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য গ্যাসের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে কয়লা, বাতাস ও সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে একটি টেকসই খাত গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে এবং শিল্প কারখানাগুলো জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈশ্বিক আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বন্ধের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ২০২১ সালের আগের চুক্তির আওতায় পায়রা দ্বিতীয় পর্যায়ের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে তাদের সঙ্গে সর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একইসঙ্গে বিদ্যমান চলমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার প্রতিটি সমস্যার টেকসই সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই সংকটের উত্তরণ সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা