রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
লোহিত সাগরের উপকূলে হুতিদের আগ্রাসন: বাস্তুচ্যুত ৫০ হাজার ইয়েমেনি মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা নিরসনে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান শি জিনপিংয়ের, ব্রিকস সম্মেলনে জোর মোদির বিএনপি স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটছে, কথা দিয়ে কথা রাখছে না: নাহিদ ইসলাম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলো ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা আদাবরে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে সিআইডির ফরেনসিক দল জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ বললেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আবরার ফাহাদ আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক: রাশেদ খাঁন জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যে চীনা স্যাটেলাইট ছবি: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

লোহিত সাগরের উপকূলে হুতিদের আগ্রাসন: বাস্তুচ্যুত ৫০ হাজার ইয়েমেনি

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদ শিরোনাম ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি

  • চীন ও ব্রিকস: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস সদস্যদের সঙ্গে কাজ করবে চীন।
  • কর্মসংস্থান সংকট: কারখানা ভবনগুলো পড়ে থাকলেও সেখানে নেই কোনো কর্মসংস্থান।
  • হুতিদের অগ্রযাত্রা: লোহিত সাগরের দিকে হুতিদের এগিয়ে যাওয়ায় ৫০ হাজার ইয়েমেনি বাস্তুচ্যুত।
  • কারিগরি ত্রুটি: একের পর এক কারিগরি ত্রুটির ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিজভী।
  • ফুটবল: ৫ বছর পর জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিরছে ঘরোয়া ফুটবল।

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা আকস্মিক ও দ্রুতগতির অভিযান চালিয়ে একের পর এক শহর দখল করে নিয়েছে। এসব এলাকা এতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই সংঘাতের ফলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন এবং কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় ত্রাণকর্মীদের বরাতে জানা গেছে। অনেক গ্রাম এখন জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং বহু পরিবার সম্মুখসারির কাছে আটকা পড়ে খাদ্য সংকটে ভুগছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, তাইজ ও হোদেইদাহ প্রদেশে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আইওএমের মুখপাত্র জো লোরি জানান, ঘরবাড়ি ছেড়ে আসা মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। বাস্তুচ্যুতদের জন্য জরুরি আশ্রয়, নগদ সহায়তা, খাবার, নিরাপদ পানি ও চিকিৎসা সেবা এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগর মোখা দখলের বিষয়টি এই অভিযানের অন্যতম বড় দিক। শহরটি বিশ্বব্যাপী কফি বাণিজ্যের জন্য পরিচিত। শহর থেকে পালিয়ে আসা বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ছিল প্রলয়ঙ্কর। অনেকে পালানোর সময় সশস্ত্র দলগুলোর লুটপাটের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কেউ মোটরসাইকেলে করে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে হুতিদের প্রভাব ও শক্তি ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে উপকূলের দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের মাধ্যমে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে সরাসরি উপস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। প্রায় ২০ মাইল প্রশস্ত এই জলপথ এশিয়া ও ইউরোপকে সংযুক্তকারী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট। হুতিরা এই পথ বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে, কারণ তখন জাহাজগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

ইয়েমেনের এই সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৮০ ডলারের কাছাকাছি থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইয়েমেনে আবার পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। উল্লেখ্য, আগের যুদ্ধে প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছিলেন। এছাড়া, ২৫ বছরের মার্কিন যুদ্ধে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষের মৃত্যু এবং ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাহাড়ি সবুজ ঢাল পেরিয়ে এসব এলাকা শুষ্ক উপকূলীয় সমভূমিতে গিয়ে মিশেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেক পরিবারের জন্য এটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো বাড়িঘর ছাড়ার ঘটনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি জানান, অনেকে শহর ছেড়ে নিজেদের মালপত্র নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘নতুন করে সম্মুখসারির যুদ্ধ, বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছেন বেসামরিক মানুষ।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে দেশটির থেমে থেমে চলা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চকলেটের স্বাদের কফির নামও এই শহরের নাম থেকে এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা