কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার সংকট ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার ‘মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স’ এর সামনে তারা বিক্ষোভ করেন। এ সময় কৃষকদের তোপের মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন। মূলত রবি মৌসুমের প্রধান ফসল আমন, বেগুন এবং বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য সারের জরুরি প্রয়োজনে তারা ডিলার পয়েন্টে জড়ো হয়েছিলেন।
বিক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, সার বিতরণ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিলার ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়ে দেন যে বরাদ্দের সব সার শেষ হয়ে গেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কৃষকরা সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত পুলিশ, বিজিবি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কর্মকর্তাদের উদ্ধার করেন। ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, কৃষকরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সার বিতরণে কোনো প্রকার অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেনের দাবি, এলাকায় সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুক্রবার দুটি পয়েন্ট থেকে সার বিতরণের পরিকল্পনা ছিল। প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সার সংকট ও লুটপাটের ঘটনা বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। কৃষক ওমর ফারুক জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার বেরুবাড়ী, বামনডাংগা ও রামখানা ইউনিয়নে সার না পেয়ে কৃষকরা আন্দোলন করেছিলেন। এমনকি দুই দিন আগেই রাজিবপুর উপজেলায় একটি গুদামে সার লুটের অভিযোগ ওঠে কৃষকদের বিরুদ্ধে, যেখানে পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল।
সার নিয়ে এমন অস্থিরতা নতুন নয়। এর আগে গত ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা গোডাউন লুট করেছিলেন। এর ঠিক ১৫ দিনের মাথায় রৌমারী উপজেলায় গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কৃষকদের মধ্যে সার পাওয়ার তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ কাজ করছে। নাগেশ্বরীর ঘটনার দিন অপর একটি ডিলার পয়েন্টেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করতে হয়। ধারাবাহিকভাবে ঘটা এসব ঘটনা স্থানীয় কৃষিখাতে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব পড়ছে আমন ও রবি ফসল চাষাবাদে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ১৫ দিনের ব্যবধানে রৌমারীর গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যান আরেক দল কৃষক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু মৌসুমের শুরু থেকেই মিলছে না চাহিদামতো সার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারের লোকজনকে গুদামের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে আটকে দেন দরজা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবস্থান নেন কৃষকরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাবতলা গ্রামের কৃষক মজিবর বললেন, ‘সারের জন্য চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেক হয়রানির পরেও সার পাওয়া যায় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই গ্রামের আব্দুস সালামের কথা, ‘ডিলারের কাছে গেলে বলে সার নাই।