পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও বিভিন্ন শৃঙ্খলাজনিত অপরাধের দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং এর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ৬৪ জন শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রী শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২০ আগস্ট একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার আলোকে ৩১ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরবি বিভাগের সাতজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া আইন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ এবং অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ প্রোগ্রাম থেকে তিনজন করে শিক্ষার্থী অভিযুক্ত হয়েছেন। ভূগোল ও পরিবেশ, ইংরেজি এবং দর্শন বিভাগের দুইজন করে শিক্ষার্থীকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি, রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, ইসলামিক স্টাডিজ, সমাজকল্যাণ, পরিসংখ্যান, ইতিহাস, সংস্কৃত এবং নার্সিংয়ের বিভিন্ন বর্ষের একজন করে শিক্ষার্থী এই তালিকায় রয়েছেন।
শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তারা পরীক্ষা চলাকালীন জেমিনাই ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বন করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় এবং জালিয়াতি রোধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।