শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আত্মগোপন ও অবস্থান নিয়ে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, তার এক চাঞ্চল্যকর সত্যতা পাওয়া গেছে। এতদিন নানা সমালোচনা ও আর্থিক বিনিময়ের অভিযোগ বিএনপি নেতারা অস্বীকার করে এলেও, এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি রোজিনা আক্তার নিজেই জনসমক্ষে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। শুক্রবার ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই বিস্ফোরক বক্তব্য দেন।
সমাবেশে রোজিনা আক্তার বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। তার দাবি, বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতারা যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারাও যেন সেভাবে নির্যাতনের শিকার না হন—এমন মানবিক দিক থেকেই তিনি এই সহায়তা করেছিলেন। তবে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে গেছে এবং পাড়ায়-মহল্লায় অরাজকতা শুরু হয়েছে, যা আর সহ্য করা হবে না। তার এই সরাসরি স্বীকারোক্তি স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই আপনারা পাগল হয়ে গেছেন, পাড়া-মহল্লায় অরাজকতা শুরু করেছেন।
এর আগে স্থানীয়ভাবে আলোচিত প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রহমত উল্লাহ ওরফে কাইল্লা রকমতকে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে আত্মগোপনে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছিল রোজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপন বৈঠকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেছিলেন। তবে শুক্রবারের সমাবেশে তার দেওয়া নতুন এই বক্তব্য পুরো পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
রোজিনা আক্তারের এমন মন্তব্যের জেরে ফতুল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তোলপাড়। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গোপন সমঝোতা বা যোগাযোগের যে গুঞ্জন ছিল, তা এখন আরও স্পষ্ট হলো। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের একাংশ নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া চলবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি অবস্থান নেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কথিত যোগাযোগ, সমঝোতা ও বৈঠক নিয়ে বাজারে যে গুঞ্জন ছিল, তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। এখন আর আপনাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না।