সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) প্রধান ফটকের সামনে ফুটপাত দখলমুক্ত করার সময় হকার ও আনসার সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রোববার সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে হকাররা সড়ক অবরোধ করে ফেলেন, তবে পরে পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় ও ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইপিজেড গেটের সামনের ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন হকাররা। স্থানীয় বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াতের সুবিধার্থে গত ১২ সেপ্টেম্বর সড়ক ও জনপথ বিভাগ একবার উচ্ছেদ অভিযান চালায়। কিন্তু অভিযানের পরও হকাররা পুনরায় ফুটপাতে বসতে শুরু করেন।
আজ সকালে ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ফুটপাতের সীমানা নির্ধারণ ও সংস্কার কাজ শুরু করতে চাইলে হকারদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের তর্কাতর্কি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। বেলা ১১টার দিকে হকাররা মহাসড়ক অবরোধ করলে দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত হকার শরীফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আনসার সদস্যরা তাদের ওপর অন্যায়ভাবে আক্রমণ করেছে। তিনি বলেন, দোকানপাট করতে না দেওয়ায় তারা সড়কে নেমেছেন। এতে দুই নারীসহ অন্তত চারজন হকার আহত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেছেন। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলায় ২ নারীসহ অন্তত ৪ হকার আহত হয়েছে। শরীফুল ইসলাম নামে এক হকার বলেন, ‘আমাদের দোকানপাট করতে দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে, ডিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার জানান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা যেখানে দেশি-বিদেশি বায়ার ও বিনিয়োগকারীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন। ফুটপাতে দোকান বসানোর ফলে চরম যানজট তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্ছেদ করার পরও হকাররা পুনরায় বসছেন। আজ সীমানা নির্ধারণের সময় হকাররা বাধা দেন ও সড়ক অবরোধ করেন। এই ঘটনায় তাদের চারজন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান। সেসময় হকাররা জড়ো হয়ে ডিইপিজেডের আনসার সদস্যরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হকারদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে আজ কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে আনসার সদস্য নিয়ে হকার সরাতে গিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়াও এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় ডিইপিজেডের কারখানা সচল রাখা হয়েছে।