বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

ইউরোপের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি

Reporter Name / ৪৪ Time View
Update : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

ইউরোপের বাজারে চীনের ক্রমবর্ধমান দাপট এবং এর ফলে সৃষ্ট বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে ব্রাসেলসের নীতি-নির্ধারকদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতার চিত্রটি বেশ প্রকট। তথ্য অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্য ঘাটতি এখন প্রতিদিন ১০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি ইউরোপীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে দুই পক্ষের ঐতিহ্যগত বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক ধরনের কৌশলগত টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতির এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাটি বেইজিং এবং ব্রাসেলসের মধ্যকার সম্পর্কের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। ইউরোপের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, চীনা পণ্যের জন্য ইউরোপীয় বাজার অত্যন্ত উন্মুক্ত এবং সহজলভ্য হলেও, উল্টোদিকে চীনা বাজারে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার বেশ জটিল এবং নিয়ন্ত্রিত। এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাণিজ্যিক পরিবেশ ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ইউরোপীয় সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপের বাজারে চীনা পণ্যের অতিরিক্ত আধিপত্য নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

ইইউয়ের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো চীনের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না করে কীভাবে নিজেদের অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমিয়ে আনা যায়। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা এখন ইউরোপের প্রধান কূটনৈতিক লক্ষ্য। ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ একদিকে যেমন নিজেদের বাজারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থায়িত্বকেও গুরুত্ব দিতে চাইছে।

এই সংকট নিরসনের উপায় খুঁজতে উভয় পক্ষই নড়েচড়ে বসেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ব্রাসেলসের প্রতি সমমর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপ এবং গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এই বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তারা আশা করছেন যে ইউরোপীয় পক্ষ চীনের সঙ্গে একত্রিত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে কাজ করবে। বেইজিংয়ের এই অবস্থানের মাধ্যমে স্পষ্ট যে, তারা কেবল ইউরোপের একতরফা দাবির মুখে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় না, বরং আলোচনার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সমমর্যাদাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উভয় পক্ষের যৌথ স্বার্থ রক্ষা করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইমানুয়েল বোন আগামী ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর চীন সফর করতে যাচ্ছেন। তার এই সফর ইউরোপ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর চীনের কড়াকড়ি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। আধুনিক কূটনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফর ইইউ এবং চীনের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি মোড় পরিবর্তনের সুযোগ হতে পারে। সম্প্রতি চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওর সঙ্গে বৈঠক করতে চীন সফর করেছেন ইইউয়ের বাণিজ্যবিষয়ক কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। চীন থেকে ইইউতে পণ্য আমদানির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে বিগত তিন মাস ধরে চলতে থাকা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় মারোস সেফকোভিচের এ সফর। আর মূলত তার এই সফরের পরই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে নতুন করে। বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীনের দেওয়া বিধি-নিষেধ ইউয়ের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা