কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে প্রাণনাশের ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত মোকারম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা মো. রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মোকারম হোসেন মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। গতকাল শনিবার ভোরে ঢাকা ও নেত্রকোনায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে মোকারমকে রাজধানীর মিরপুর থেকে এবং রিয়াদকে নেত্রকোনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া মোকারম মিঠামইনের ভাটিঘাগড়া গ্রামের আব্দুল হাসিম মিয়ার ছেলে এবং রিয়াদ একই গ্রামের রান্নু মিয়ার সন্তান।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে ফেরার সময় জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা চাপাতি, রামদা ও কুড়ালের মতো ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনেরা তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুরো হাওরাঞ্চল জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় হামলার শিকার হন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। অভিযোগ রয়েছে, আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।
এই নৃশংস ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে মো. হেলাল নামের এক তরুণকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশের হাতে তুলে দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মোকারম হোসেন খোকার নাম উল্লেখ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে তিনজনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শুরু হলে পুলিশ ইতিপূর্বে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের বাসিন্দা মহিন উদ্দিন ও মো. শাহিন আলমকে গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মো. হেলাল (২৪) নামের এক তরুণকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ জানান, ঢাকা ও নেত্রকোনায় সফল অভিযানের মাধ্যমে মূল অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কিশোরগঞ্জের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য আসামিদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো হাওরাঞ্চলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।