বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনের দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারের সাফল্যের মূলমন্ত্র হলো কাজের প্রতি তার অবিচল নিষ্ঠা। আজও একটি দৃশ্যের জন্য তিনি বারবার মহড়া দেন, যেন পর্দায় চরিত্রটি নিখুঁতভাবে ফুটে ওঠে। ‘পিকু’ সিনেমার সেটে পরিচালক সুজিত সরকার অমিতাভ ও ইরফান খানের কাজের ধরনে এক বড় পার্থক্য লক্ষ করেছিলেন। শুটিংয়ের দিন ইরফান খান একবার মহড়া দিয়েই সাবলীলভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। অথচ অমিতাভ সেই সকাল থেকেই দৃশ্যটির মহড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। দৃশ্যের খুঁটিনাটি নিয়ে এতটাই সচেতন ছিলেন তিনি যে, প্রথম টেকের পর ইরফান যখন অন্যভাবে অভিনয় করেন, অমিতাভ তখন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, মহড়ার সময় যে হাতে লাইসেন্স দিয়েছিলেন, ক্যামেরার সামনে কেন তা বদলে ফেললেন? ছুটি শেষে সৌদি ফিরেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বগুড়ার শাহেদ। রিয়াদ বিমানবন্দরে নিহত ২ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেল। দুই অভিনেতার প্রস্তুতির ধরন আলাদা হলেও লক্ষ্য ছিল এক—চরিত্রকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা। ‘পিকু’র একটি দৃশ্যে ইরফানের চরিত্র রানা ড্রাইভিং লাইসেন্স তুলে দিচ্ছেন অমিতাভের চরিত্র ভাস্কর ব্যানার্জির হাতে।
পরিচালক সুজিত সরকারের মতে, ফিল্ম রোলের যুগে বারবার টেক দেওয়ার সুযোগ কম ছিল বলেই অমিতাভ এমন দীর্ঘ প্রস্তুতি নিতেন। অভিনয়ের প্রতিটি সূক্ষ্ম দিক সামলাতে তিনি নিজের ওপর প্রচুর চাপ প্রয়োগ করতেন। কেবল সময় বাঁচানো নয়, বরং অভিনয়ের মান বজায় রাখাই ছিল তার লক্ষ্য। হাসানের হ্যাটট্রিকে লিটন-শান্তর ভূমিকা।
কাজের প্রতি এই একাগ্রতা অমিতাভের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘দিওয়ার’ সিনেমার একটি দৃশ্যে এতটাই দ্বিধায় ছিলেন যে, প্রস্তুতির জন্য টানা মেকআপ রুমেই থেকে গিয়েছিলেন। পরিচালক যশ চোপড়াও তাকে নিজের মতো সময় দিয়েছিলেন। সেই সময় অমিতাভ গভীর রাত পর্যন্ত নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। অভিনেতা হিসেবে তিনি মনে করেন, ক্যামেরা ও ইউনিটের সামনে অভিনয় করা আর একা মহড়া দেওয়া এক বিষয় নয়। তাই কখনো কখনো তিনি সেটে সবাইকে দূরে সরে যেতে বলতেন, যাতে দৃশ্যটির আবেগের সঙ্গে পুরোপুরি একাত্ম হতে পারেন। চরিত্রের আবেগ ও পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এই চেষ্টাই তার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নিজের প্রস্তুতির বিষয়ে অভিনেতা আমির খান একটি পুরনো ঘটনার কথা স্মরণ করেন। তার প্রথম ছবি ‘কয়ামত সে কয়ামত তক’-এর শুটিংয়ের সময় অমিতাভকে পাশের সেটে একটানা একটি সংলাপ বলতে শুনেছিলেন তিনি। আমিরের ধারণা হয়েছিল, অমিতাভ তখন অন্তত ১০০ থেকে ২০০ বার সংলাপটি আওড়েছেন। এমনকি আটবার টেক দেওয়ার পরও অমিতাভ নিজের অভিনয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না, যা আমিরের কাছে ছিল অভিনয়ের প্রতি গভীর নিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ। স্ত্রীর কাছে টাকা চাইলেই তা যৌতুক নয়: পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট।
২০২১ সালে ‘চেহরে’ সিনেমার প্রচারণার সময় অমিতাভ জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংলাপ মনে রাখার চ্যালেঞ্জ সামলাতে তাকে এখন অনেক বেশি অনুশীলন করতে হয়। তিনি নিজের কাজকে নির্মাতাদের প্রতি একটি দায়বদ্ধতা বলে মনে করেন। কারণ, একটি সিনেমার পেছনে হাজারো মানুষের পরিশ্রম জড়িয়ে থাকে।
২০১৮ সালে নিজের ব্লগেও চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা খুঁটিনাটি নিয়ে তিনি লিখেছিলেন। অভিনেতাকে সংলাপের পাশাপাশি শারীরিক অঙ্গভঙ্গি, মেকআপ, চুলের স্টাইল এবং ক্যামেরার অবস্থানের মতো ছোটখাটো অনেক বিষয়ে মনোযোগ দিতে হয়, কারণ একটি টেকের সঙ্গে পরেরটির সামান্য পার্থক্যও পুরো দৃশ্যের ধারাবাহিকতা নষ্ট করতে পারে।
তার ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল ‘পা’ সিনেমা। ৬৭ বছর বয়সে অরোর চরিত্রে অভিনয়ের সময় দীর্ঘ সময় ধরে মেকআপ নেওয়া এবং সেই শারীরিক রূপান্তরকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা ছিল বড় পরীক্ষা। ‘দিওয়ার’, ‘জঞ্জির’, ‘শোলে’ থেকে শুরু করে ‘পিকু’ কিংবা ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’—প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নিজেকে নতুনভাবে ভেঙেছেন ও গড়েছেন। তার কাছে অভিনয় কেবল সংলাপ মুখস্থ করা নয়, বরং পুরোপুরি সেই চরিত্র হয়ে ওঠা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘ফিশন বিক্রিয়া’ শুরু।