ফুটবল বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের এবারের আসর বসছে লন্ডনের বিখ্যাত লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটারে। সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এই আয়োজনে কিলিয়ান এমবাপের উপস্থিতি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ, গত দুই বছর রিয়াল মাদ্রিদ অভিমান করে এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছিল, তবে এবার তারা লন্ডনে প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে এবং সেই দলে রয়েছেন এমবাপে নিজেও। সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে: আইজিপি। ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা জানাল এইচআরএসএস। এক রাতেই যেন দুটি মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে কিলিয়ান এমবাপে। দুই বছর আগে ভিনিসিয়ুসকে পুরস্কার না দেওয়ায় ব্যালন ডি’অরের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানিয়েছিল ক্লাবটি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের তথ্যমতে, রিয়ালের প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। এমবাপের সঙ্গে ওই দলে থাকছেন মার্ক কুকুরেয়া, ইয়ান দিওমান্দে ও রিয়ালের নারী দলের ফেলিসিয়া শ্রোডার। তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহাম এবারের অনুষ্ঠানে থাকছেন না। একই সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজও এই সফরে অনুপস্থিত থাকছেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্লাবটির প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কবিষয়ক পরিচালক এমিলিও বুত্রাগেনিও। ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২২১৮। ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্ট আগেই তার উপস্থিতির বিষয়টি জানিয়েছিল। ফলে এবারের অনুষ্ঠানে রিয়ালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠছেন এমবাপেই। সেই ঘটনার জেরে প্যারিসের অনুষ্ঠানে যাননি রিয়ালের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা।
এমবাপের লন্ডনযাত্রা ও রিয়ালের অবস্থান পরিবর্তনের ঘটনাটি ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। পরিসংখ্যানগতভাবে এমবাপে এবার বেশ শক্ত অবস্থানেই আছেন। গত মৌসুমে লা লিগায় ২৫টি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫টি গোল করে তিনি উভয় প্রতিযোগিতারই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। বিশ্বকাপেও ১০ গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে ৬০ ম্যাচে তিনি ৫৮টি গোল করেছেন এবং ১৩টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। নয় নম্বর পজিশনের চাপ মাথায় নিয়েই গোল করতে মুখিয়ে মাহি খান। গত মৌসুমে লা লিগায় ২৫ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫ গোল করে দুই প্রতিযোগিতাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল হলেও গত মৌসুমে রিয়ালের হয়ে কোনো বড় দলীয় শিরোপা জিততে না পারাটা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এর মধ্যে আবার পুরস্কার ঘোষণার ঠিক আগের দিন এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি নিজের ফর্মের জানান দিয়েছেন। রিয়ালকে ২-১ ব্যবধানে জেতানোর ওই ম্যাচে তিনি ক্লাবটির হয়ে নিজের শততম গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন। যদিও ভোটপ্রক্রিয়া আগেই শেষ হওয়ায় এই পারফরম্যান্স ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে না, তবে এমবাপের প্রতি আগ্রহ ও উদ্দীপনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সেই ম্যাচে রিয়ালের হয়ে ১০০ গোলের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। যদিও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি যে পিছিয়ে নেই, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। তবে পুরস্কার ঘোষণার আগে এমবাপেকে ঘিরে আগ্রহ যে আরও বেড়েছে, তাতে সন্দেহ নেই।
২০২৪ সালে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্যালন ডি’অর পাচ্ছেন না জেনে শেষ মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদ অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
সেই ঘটনার রেশ ধরে পরের বছরও তাদের পুরুষ দলের প্রতিনিধিরা অনুপস্থিত ছিলেন। ২০২৫ সালেও ক্লাবটির পুরুষ দলের প্রতিনিধিরা অনুপস্থিত ছিলেন।
সেবার পুরস্কারটি জিতেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রি।
সেই দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে এবার রিয়াল মাদ্রিদের ফিরে আসা এবং এমবাপের উপস্থিতি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে রিয়ালের এই পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আয়োজকদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন কিংবা এমবাপের পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা—উভয়ই এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যালন ডি’অর আয়োজকদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির খবরও এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
ব্যালন ডি’অরের এবারের আসরটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হতে যাচ্ছে। কেবল এমবাপে নন, হ্যারি কেইন এবং বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামালও পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার। বিশেষ করে বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইনকে নিয়ে বাজিকরদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। আবার বিশ্বজয়ী ইয়ামালের পক্ষেও রয়েছে শক্তিশালী যুক্তি। তালিকায় ২০২৪ সালের বিজয়ী রদ্রিও রয়েছেন। সব মিলিয়ে ১৯৫৬ সালে শুরু হওয়া ব্যালন ডি’অরের এই ৭০তম আসরে এমবাপের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে কি না, তা নিয়ে ফুটবল দুনিয়ার নজর এখন লন্ডনের মঞ্চে। আর এতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি এবারের ব্যালন ডি’অর উঠতে যাচ্ছে এমবাপের হাতেই।