সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’। এর মাধ্যমে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো এখন থেকে শতভাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও মামলায় রূপান্তর করা হবে।
যে ৬টি অপরাধে সরাসরি স্বয়ংক্রিয় মামলা হবে
প্রাথমিক পর্যায়ে মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট ৬টি গুরুতর আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা ও জরিমানা ধার্য করা হচ্ছে:
১. হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো: চালক এবং পিলিয়ন (পেছনের আরোহী)—উভয়ের ক্ষেত্রেই হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২. ড্রাইভিংয়ের সময় ফোনে কথা বলা: মনোযোগে বিঘ্ন ঘটিয়ে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহারের ঘটনা এআই ক্যামেরায় ধরা পড়বে।
৩. সিটবেল্ট না বেঁধে গাড়ি চালানো: চালক বা যাত্রীদের সিটবেল্ট ব্যবহারের বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
৪. লাল বাতি (Traffic Signal) অমান্য করা: সিগন্যাল অমান্য করে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রোধে এই ব্যবস্থা।
৫. রং পার্কিং (Illegal Parking): মহাসড়কের ওপর যেখানে-সেখানে বা যত্রতত্র অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬. রং সাইডে চলাচল (Driving on the Wrong Side): বিপরীত দিক বা উল্টোপথে গাড়ি চালানো রোধে এআই ক্যামেরাগুলো বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে।
যেভাবে কাজ করবে এই পদ্ধতি
এআই ক্যামেরা নেটওয়ার্ক: নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কে ৪৯০টি খুঁটিতে বসানো হয়েছে শত শত আধুনিক এআই, পিটিজেড এবং বুলেট ক্যামেরা।
স্বয়ংক্রিয় নোটিশ: ক্যামেরা কর্তৃক কোনো যান বা চালক কর্তৃক আইন লঙ্ঘনের মুহূর্তটি রেকর্ড হওয়ার সাথে সাথেই সেই তথ্য বিআরটিএ-র (BRTA) ডেটাবেজে চলে যাবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে মামলার বিস্তারিত তথ্য ও জরিমানার নোটিশ পৌঁছে যাবে।
জরিমানা পরিশোধ: এসএমএস পাওয়ার পর চালক বা মালিক ঘরের বাইরে না গিয়েই নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমন- বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) ব্যবহার করে খুব সহজেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।
কঠোর ব্যবস্থা: একই যানবাহন বারবার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে বিআরটিএ-র বিধিমালা অনুযায়ী গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে চালুর পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই প্রযুক্তির সফলতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে খুব দ্রুতই দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতেও এই স্বয়ংক্রিয় ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করা হবে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্বাস, এই প্রযুক্তির সুবাদে মহাসড়কে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও চাঁদাবাজির প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।
এআই ভিত্তিক এই অটোমেটেড ট্রাফিক সিস্টেম চালুর ফলে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আপনার মনে হয়?