চট্টগ্রামের পটিয়ায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) অস্বাভাবিক বিলের কারণে শত শত গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পটিয়ায় কার্যক্রম শুরুর পর থেকে পৌর এলাকার আটটি ওয়ার্ডে প্রায় আড়াই হাজার সংযোগ দেওয়া হয়। তবে গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে বিল বিতরণ শুরুর পর থেকেই গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। গত এক সপ্তাহে তিন শতাধিক গ্রাহক বিল সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে পটিয়ার ইন্দ্রপুল এলাকায় অবস্থিত ওয়াসা কার্যালয়ে ভিড় করেছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ তিন থেকে আট মাস ধরে অনেকের পানির মিটার নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এরপরও তাদের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাছির উদ্দীন জানান, তার বাড়ির মিটারটি আট মাস ধরে অকেজো হয়ে আছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শাহনাজ আক্তার জানান, সংযোগ নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় কোনো বিল না পেলেও সম্প্রতি তাকে একসঙ্গে ১০ হাজার ৬৮১ টাকার বিল দেওয়া হয়েছে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সামশুল আলমের অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ; সংযোগ নেওয়ার পর বারবার যোগাযোগ করেও বিল না পাওয়ার পর, এক বছর শেষে তাকে ১ লাখ ১ হাজার ৭২০ টাকার বিশাল অংকের বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গ্রাহকদের এসব অভিযোগের বিষয়ে পটিয়া ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া শাকিল জানান, মিটারগুলো নিচু জায়গায় বসানোর কারণে পানি ঢুকে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি জানান, নষ্ট মিটারগুলো অপসারণের প্রক্রিয়া চলছে। অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি মূলত রাজস্ব বিভাগ দেখভাল করে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার্থে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সহজ কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সামশুল আলম অভিযোগ করে বলেন, সংযোগ নেওয়ার পর অনেকবার ওয়াসা কার্যালয়ে এসে জিজ্ঞাসা করেছি, বিল দেওয়া হচ্ছে না কেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারপরও গ্রাহকদের সুবিধাজনকভাবে বিল পরিশোধের সুযোগ দিতে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।