বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

কক্সবাজারে রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে চীনা-তাইওয়ানিজ চক্রের বিশাল সাইবার প্রতারণা নেটওয়ার্ক

Reporter Name / ৬৩ Time View
Update : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পর্যটকদের আবাসনের আড়ালে কক্সবাজারের হিমছড়ির একটি রিসোর্টে গড়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণার এক বিশাল ‘সাইবার ল্যাব’। রিসোর্টের ছয়টি শব্দরোধী কক্ষ ও বড় হলরুমে কম্পিউটার, মনিটর ও প্রায় দুই হাজার আইফোন বসিয়ে চক্রটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। কনস্ট্রাকশন কোম্পানি প্রতিষ্ঠার নামে রিসোর্টটি ভাড়া নেওয়ার আড়ালে তারা এর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল এবং নিজস্ব সিকিউরিটি ব্যবস্থাও গড়ে তুলেছিল। এই চক্রের সাথে জড়িত ছয়জন চীনা ও তাইওয়ানিজ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের হিমছড়িতে মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্ট ছাড়াও উখিয়ার ইনানী এলাকার আরও দুটি রিসোর্ট ও একটি আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়েছিল এই চক্রটি। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এসব স্থানে তিন শতাধিক চীনা ও তাইওয়ানিজ নাগরিক অবস্থান করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তবে তাদের সবাই এই প্রতারক চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ, জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রামু থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন তাইওয়ানের এবং পাঁচজন চীনের নাগরিক। অভিযানের সময় আরও চারজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

মেরিনা বিচ ভিলার ওই সাইবার ল্যাব থেকে ১,৯৩৮টি পুরোনো মডেলের আইফোন, ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি কিবোর্ড, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার, ৪০টি মাউস, একটি আইপিএস ও ২৪টি কানেকশন বোর্ড জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া চীনের দুটি জাতীয় পতাকা, চীনা পুলিশের দুটি র‌্যাংকব্যাজ, পুলিশ প্রতীকযুক্ত একটি টাই, চারটি গ্রামীণফোন ও একটি রবি সিম, ১৫টি নোটখাতা এবং একটি ডায়েরিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তদন্তে জানা যায়, ‘বাবর আলী’ নামে এক চীনা নাগরিক রিসোর্টগুলো ভাড়া নেওয়ার মূল হোতা ছিলেন, যার প্রকৃত নাম ঝান ইউয়ান ফান। তার সহযোগী পাই লেডিং রিসোর্ট মালিকদের সাথে ভাড়ার চুক্তি করেছিলেন। এছাড়া উ ওয়েইপিং নামে আরেক চীনা নাগরিক নিজেকে ‘জিন শিন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’র মালিক হিসেবে পরিচয় দিলেও পুলিশের অনুসন্ধানে ওই নামে কোনো কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান ও রিসোর্ট ভাড়ার তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি বলে পুলিশের দাবি। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের পাসপোর্ট ও ভিসার কপি বিশেষ শাখায় জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এসব নাগরিকের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

চক্রটির সন্ধান পেতে পুলিশকে তিন দফা অভিযান চালাতে হয়েছে। প্রথম দফায় ২৫ আগস্ট মেরিনা বিচ ভিলায় অভিযান চালানো হলে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক পেছনের সৈকত দিয়ে পালিয়ে যান। এরপর পরদিন ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এবং ২৮ আগস্ট পুলিশের সিটিটিসির উপমহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি দল রিসোর্টটি পরিদর্শন করে।

সিটিটিসির প্রাথমিক মতামত অনুযায়ী, চক্রটি কৃত্রিম বাজার বিশ্লেষণ, ভুয়া প্রলোভন, নকল বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা নেওয়া, ‘এক্সিট ফ্রড’ ও অর্থ আত্মসাতের মতো অনলাইন আর্থিক প্রতারণায় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করতে জব্দ করা আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

মেরিনা বিচ ভিলায় অভিযানের পর পুলিশ জানতে পারে যে, কয়েকজন বিদেশি নাগরিক কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন। এরপর কলাতলী এলাকার দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাইওয়ানের ওয়েই ছিং ওয়েন এবং চীনের সু ইয়াংফান, ইয়ান চ্যাংশেং, সু হাইয়াং, উ চিয়ানশিয়ং ও ঝাং ঝেমিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি পাসপোর্ট ও তিনটি পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে। পলাতক চারজন হলেন ঝান ইউয়ান ফান ওরফে বাবর আলী, পাই লেডিং, উ জিপিং ও জিয়ান ঝাং।

এই ঘটনায় রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক মিন্টু দত্ত বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার সাইবার অপরাধ আইনে মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জন ও পলাতক চারজনের পাশাপাশি ২৫০ থেকে ৩০০ জন চীনা ও তাইওয়ানিজ নাগরিককে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। রামু থানার ওসি এ কে ফজলুল হক জানান, বিদেশিরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং তাদের দাবির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ অহিদুর রহমান জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে হোটেল অর্কিড ব্লু-এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের হোটেলে থাকা ২৪ জন চীনা নাগরিকের বিষয়ে চুক্তিপত্রসহ সব তথ্য ডিজিএফআইসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছিল এবং তারা সেখানে কোনো কাজকর্ম করতেন না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা