দেশে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার ফলে প্রতি বছর প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের তৃতীয় দিনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত এক জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪-এর সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ‘নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল’ বিষয়ক এই নোটিশটি উপস্থাপন করেছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারা দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। এই বিপুল সংখ্যক অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট পরিস্থিতি এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া, এসব যানের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট ছয় হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৯১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশের সঙ্গেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মন্ত্রী অনিবন্ধিত যানবাহন, চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব, যানের ত্রুটিপূর্ণ নকশা, ব্রেক ও আলোর সমস্যার পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচলের প্রবণতাকে দায়ী করেন। গত এক দশকে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নগর ও গ্রামীণ পরিবহণ ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
নোটিশ প্রদানকারী সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু অটোরিকশাগুলোকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য বাহন হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব যানের কাঠামোগত ত্রুটি দূর করা এবং প্রধান সড়কে এদের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেন তিনি। বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়া অটোরিকশা জব্দ বা চালকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে অটোরিকশায় নাম্বার প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা, বিআরটিএ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জিংয়ের সুবিধা নিশ্চিত করা।
রেহানা আক্তার রানু আরও জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা কার্যকর রয়েছে। এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে লালবাতি অমান্য করা, লেন পরিবর্তন এবং নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। তিনি অটোরিকশার ক্ষেত্রেও অঞ্চলভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সুশৃঙ্খল নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব যানবাহনের বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় পাঁচ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব ক্যামেরা যানবাহনের নাম্বার প্লেট শনাক্ত করে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য পাঠায় ও পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে দ্রুত যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের কারণে এ খাত এখন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিপুলসংখ্যক যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনুমোদিত বা আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রান্সফর্মার ও বিতরণ লাইনে বাড়তি লোড এবং পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।