আজ থেকে ঠিক ২৫ বছর আগে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে অবস্থিত বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রের ১১০ তলা বিশিষ্ট টুইন টাওয়ার সন্ত্রাসী হামলায় ধসে পড়ে। সেই ভয়াবহ ঘটনার ২৫ বছর পূর্তিতে আগামীকাল ১১ সেপ্টেম্বর নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক নগরীর নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হামলার সময় জোহরানের বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর। তার নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ৯/১১ পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসা পরিস্থিতির বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন।
নাইন-ইলেভেন মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, আল-কায়েদার সাথে সংশ্লিষ্ট ১৯ জন সন্ত্রাসী ক্যালিফোর্নিয়া থেকে চারটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ছিনতাই করে এই হামলা চালায়। এতে অন্তত ২ হাজার ৯৭৭ জন প্রাণ হারান। এর মধ্যে তৃতীয় উড়োজাহাজটি ভার্জিনিয়ায় পেন্টাগনে আঘাত হানে। ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর পার্ল হারবারে জাপানি হামলায় ২ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার ঘটনার সাথে তুলনা করলে এই হামলার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। সেই সময় জাপানি আগ্রাসনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিল, যা বিশ্ব ইতিহাসে এক নতুন মোড় তৈরি করে।
জর্জ ডব্লিউ বুশ সেই সময় ঘোষণা করেছিলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নেই, তারা যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু। এই ঘোষণার ফলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। তবে এই যুদ্ধ নিয়ে অনেক সমালোচনাও রয়েছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের ২০০১ সালের ১ মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-কায়েদা ও তালেবানদের প্রশিক্ষণের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এছাড়া, মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, হামলার পর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই হাজারো মুসলিম অভিবাসীকে আটক ও কারাবন্দি করা হয়েছিল।
গুগলের এআই মোড ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্যমতে, এই যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক নিরাপত্তানীতি কঠোর হয়েছে এবং ড্রোন হামলার মতো বিতর্কিত কৌশল ব্যবহৃত হয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে অভিযান শুরুর মাধ্যমে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, তা আজও বিশ্বরাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই লেখার অনেক পাঠকের হয়ত তখন জন্ম হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি শতাব্দীর শুরুতে বিশ্ববাণিজ্যের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া সেই বিয়োগান্তক ঘটনায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক বাস্তবতা বদলে যায়নি, পাল্টে যায় পৃথিবীর সামগ্রিক পরিস্থিতিও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা দুটি উড়োজাহাজ নিচু করে উড়িয়ে নিয়ে টুইন টাওয়ারের দুই সুউচ্চ ভবনে হামলা চালায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়াশিংটন ডিসির দিকে উড়ে যাওয়া চতুর্থ উড়োজাহাজটি যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে গিয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখা—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে জাপানি বিমান বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছিলেন অন্তত ২ হাজার ৪০০ জন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাপানি আগ্রাসন ঠেকানোর দাবি তুলে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বোমা ফেলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ ঘোষণার সিকি শতাব্দী পর এই যুদ্ধ কী অর্থ ও তাৎপর্য বহন করে—তা জানতে গুগলে অনুসন্ধান করা হলে পাওয়া যায় নানান তথ্য।