রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
লোহিত সাগরের উপকূলে হুতিদের আগ্রাসন: বাস্তুচ্যুত ৫০ হাজার ইয়েমেনি মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা নিরসনে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান শি জিনপিংয়ের, ব্রিকস সম্মেলনে জোর মোদির বিএনপি স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটছে, কথা দিয়ে কথা রাখছে না: নাহিদ ইসলাম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলো ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা আদাবরে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে সিআইডির ফরেনসিক দল জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ বললেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আবরার ফাহাদ আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক: রাশেদ খাঁন জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যে চীনা স্যাটেলাইট ছবি: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

নাইন-ইলেভেনের ২৫ বছর: বদলে যাওয়া বিশ্ব ও জোহরান মামদানিকে ঘিরে বিতর্ক

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আজ থেকে ঠিক ২৫ বছর আগে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে অবস্থিত বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রের ১১০ তলা বিশিষ্ট টুইন টাওয়ার সন্ত্রাসী হামলায় ধসে পড়ে। সেই ভয়াবহ ঘটনার ২৫ বছর পূর্তিতে আগামীকাল ১১ সেপ্টেম্বর নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক নগরীর নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হামলার সময় জোহরানের বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর। তার নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ৯/১১ পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসা পরিস্থিতির বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন।

নাইন-ইলেভেন মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, আল-কায়েদার সাথে সংশ্লিষ্ট ১৯ জন সন্ত্রাসী ক্যালিফোর্নিয়া থেকে চারটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ছিনতাই করে এই হামলা চালায়। এতে অন্তত ২ হাজার ৯৭৭ জন প্রাণ হারান। এর মধ্যে তৃতীয় উড়োজাহাজটি ভার্জিনিয়ায় পেন্টাগনে আঘাত হানে। ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর পার্ল হারবারে জাপানি হামলায় ২ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার ঘটনার সাথে তুলনা করলে এই হামলার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। সেই সময় জাপানি আগ্রাসনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিল, যা বিশ্ব ইতিহাসে এক নতুন মোড় তৈরি করে।

সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

  • সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সংজ্ঞা: যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী পরিচালিত সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযান, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
  • লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: আল-কায়েদা ও ওসামা বিন লাদেনকে নির্মূল করা এবং পরবর্তীতে আফগানিস্তানে তালেবান ও ইরাকে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতন ঘটানো।
  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ২০০২ সালে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট গঠন এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও গোয়েন্দা খাতের ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি।
  • ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি: গত ২৫ বছরে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং বিদেশে অভিযানে ৭ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
  • মানবিক বিপর্যয়: এই যুদ্ধের ফলে প্রায় ৪ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা ১৯০০ সালের পর থেকে অন্যতম বড় মানবিক সংকট।

জর্জ ডব্লিউ বুশ সেই সময় ঘোষণা করেছিলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নেই, তারা যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু। এই ঘোষণার ফলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। তবে এই যুদ্ধ নিয়ে অনেক সমালোচনাও রয়েছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের ২০০১ সালের ১ মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-কায়েদা ও তালেবানদের প্রশিক্ষণের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এছাড়া, মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, হামলার পর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই হাজারো মুসলিম অভিবাসীকে আটক ও কারাবন্দি করা হয়েছিল।

সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন

  • অভিবাসন নীতি: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সন্দেহের দৃষ্টি।
  • রোজিনা আলির পর্যবেক্ষণ: ‘সিজনস অব ফিউরি’-খ্যাত এই সাংবাদিকের মতে, হামলার আগে তিনি দক্ষিণ এশীয় হিসেবে পরিচিত থাকলেও পরে তাকে কেবল মুসলমান হিসেবে দেখা শুরু হয়।
  • সামাজিক বিভাজন: কর্মক্ষেত্র ও প্রতিবেশী পর্যায়ে সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হওয়া এবং বিনা বিচারে গ্রেপ্তারের ঘটনা।
  • গ্লোবাল ওয়ার অন টেরোরিজম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন: এই যুদ্ধের প্রভাব কয়েক প্রজন্ম ধরে চলতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

গুগলের এআই মোড ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্যমতে, এই যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক নিরাপত্তানীতি কঠোর হয়েছে এবং ড্রোন হামলার মতো বিতর্কিত কৌশল ব্যবহৃত হয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে অভিযান শুরুর মাধ্যমে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, তা আজও বিশ্বরাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই লেখার অনেক পাঠকের হয়ত তখন জন্ম হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি শতাব্দীর শুরুতে বিশ্ববাণিজ্যের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া সেই বিয়োগান্তক ঘটনায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক বাস্তবতা বদলে যায়নি, পাল্টে যায় পৃথিবীর সামগ্রিক পরিস্থিতিও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা দুটি উড়োজাহাজ নিচু করে উড়িয়ে নিয়ে টুইন টাওয়ারের দুই সুউচ্চ ভবনে হামলা চালায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়াশিংটন ডিসির দিকে উড়ে যাওয়া চতুর্থ উড়োজাহাজটি যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে গিয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখা—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে জাপানি বিমান বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছিলেন অন্তত ২ হাজার ৪০০ জন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাপানি আগ্রাসন ঠেকানোর দাবি তুলে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বোমা ফেলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ ঘোষণার সিকি শতাব্দী পর এই যুদ্ধ কী অর্থ ও তাৎপর্য বহন করে—তা জানতে গুগলে অনুসন্ধান করা হলে পাওয়া যায় নানান তথ্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা