বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘটনার তদন্তে পুলিশ

র‌্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের বিল সংসদে পাস

Reporter Name / ৮৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও সংশোধনী প্রস্তাবের মধ্যেই কণ্ঠভোটে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ বিলটি পাস হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা সাতটি আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন করা বিশ্ব সম্প্রদায় ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তাই এই আইন পাস না করার আহ্বান জানান তিনি।

বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর অধীনে এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে। সরকার পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল ও কর্মচারীদের প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ঢাকার সদর দপ্তর থেকে পরিচালিত এই ইউনিটের নেতৃত্ব দেবেন মহাপরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, যিনি বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার হবেন। তিনি ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল সব ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম, ভূমিদস্যুতা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও অন্যান্য বাহিনীকে সহায়তা করার পাশাপাশি আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করবে এই ইউনিট।

বিলের ১২ ও ১৩ ধারায় এসআরবিকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির কাছে রাখা যাবে না; বরং অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টর বা তার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি, বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত এবং তিরস্কার। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না এবং বিভাগীয় আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে। এছাড়া এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

বিরোধী সদস্যরা এই কমিটির স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, কমিটির নেতৃত্বে এসআরবির কর্মকর্তারা থাকলে তা নিরপেক্ষ হবে না। তারা অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন কমিটি এবং মানবাধিকার কমিশন, বার কাউন্সিল ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব রাখার প্রস্তাব দেন। এছাড়া বেসামরিক ব্যক্তিকে আটকের সময়সীমা নির্ধারণ, বেআইনি আদেশ অমান্যকারী সদস্যদের সুরক্ষা এবং র‌্যাবের রেকর্ড ও জনবল হস্তান্তরের বিধান নিয়েও তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিরোধী সদস্যদের আশঙ্কা, যথাযথ স্বাধীন নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এসআরবি র‌্যাবেরই নতুন সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে র‌্যাবের রেকর্ড হস্তান্তরের বিষয়টি গুমসহ গুরুতর অপরাধের মামলার আলামত নষ্ট করতে পারে বলে তারা মনে করেন। প্রশিক্ষণ শেষ করে সনদ পাওয়ার আগে ফৌজদারি তদন্তের ক্ষমতা না দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

আইন কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে র‌্যাব গঠনসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধানগুলো রহিত হবে এবং র‌্যাবের জনবল, তহবিল, দায়-দেনা ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তরিত হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ জন্য রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তৃত পরামর্শের প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই আইন কোনও অবস্থায় পাস করা উচিত না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেসব দায়িত্ব থাকবে: বিলের ১০ ধারায় এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করিবেন।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শৃঙ্খলা লঙ্ঘন ও শাস্তি: বিলের ১৭ ধারায় কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত বা অসদাচরণ, অনুমতি ছাড়া দায়িত্বস্থল ত্যাগ, আটক বা গ্রেপ্তার থেকে পালানো এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করাকে শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বা সরঞ্জাম ক্ষতি বা হারানো, বলপূর্বক অর্থ আদায়, বেআইনিভাবে জমি দখল, সম্পদ চুরি বা ধ্বংস, অপরাধীকে আটক করতে ব্যর্থ হওয়া এবং জুয়া বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত হওয়াও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে এসআরবির কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিনিধি, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তি থাকবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোনও সদস্য ১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি সাত দিন অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেয়ার বিধান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা