রাজধানী ঢাকার বর্তমান সড়ক ব্যবস্থাপনার বড় দুটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে যানজট এবং রাস্তার ওপর হকারদের অব্যবস্থাপনাকে চিহ্নিত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। তিনি জানিয়েছেন, বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজধানীতে রিকশা ও হকারের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সড়ক ব্যবস্থাপনা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনেকটা অভিভাবকহীন ও অকার্যকর অবস্থায় পড়ে ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার প্রধান লক্ষ্য ছিল এই সংস্থাকে জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর করে তোলা। তিনি মনে করেন, নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করাই সিটি করপোরেশনের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
যানজট নিরসন প্রসঙ্গে আব্দুস সালাম জানান, গণপরিবহনকে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আনা অত্যন্ত জরুরি। যেখানে-সেখানে বাস পার্কিং বা যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করার প্রবণতা যানজটের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া, হকার ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে অটোরিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শহরকে চারটি জোনে বিভক্ত করে প্রতিটি জোনের অটোরিকশা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে চলাচলের নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে এক জোনের যানবাহন অন্য জোনে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে।
শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল সিটি করপোরেশনের একার চেষ্টায় শহরের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়; এর জন্য নগরবাসীর সচেতন অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা অপরিহার্য।
নাগরিকদের অভিযোগ শোনার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে ডিএসসিসি। এখন থেকে সরাসরি কার্যালয়ে আসার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক গণশুনানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নগরের যেকোনো সমস্যার কথা দ্রুত কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে। গণমাধ্যমে উঠে আসা সমস্যার ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও মশা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশাসকের ভাষ্য, মশা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ডিএসসিসির কীটতত্ত্ববিদরা সব ধরনের ওষুধ প্রয়োগের অনুমতি দেন না, কারণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও উপকারী কীটপতঙ্গ বাঁচিয়ে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক কম এবং বিগত কয়েক মাসের নিয়মিত কার্যক্রমের ফলে মশার উপদ্রব কমে এসেছে।
মৌলিক নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে মশার উপদ্রব কমানোর পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সড়কবাতি সচল করার মতো বিষয়গুলোতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠানটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়—এসব বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিটি জোনের অটোরিকশা নিজ নিজ জোনের মধ্যেই চলাচল করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামাও বন্ধ করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করলে পরিবেশ ও অন্যান্য উপকারী কীটপতঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত কয়েক মাস ধরে নিরলসভাবে কাজ করায় মশার উপদ্রব আগের তুলনায় কমেছে।