সংযুক্ত আরব আমিরাতে চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ছুটিতে দেশে আসা অনেকেই পুনরায় সেখানে ফিরতে পারছেন না। ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জনে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরে রয়েছে এবং কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগীদের অনেকে দেশে এসে অপ্রত্যাশিতভাবে ই-মেইল বা বার্তার মাধ্যমে জানতে পারেন যে তাদের ভিসা বাতিল হয়েছে। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আমিরাতে বসবাসকারী আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ৭ এপ্রিল ছুটিতে দেশে আসার পর ২৪ জুলাই তিনি ভিসা বাতিলের নোটিশ পান। তার মতো আরও অনেকেরই কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা ফৌজদারি মামলার রেকর্ড নেই, তবুও তারা হঠাৎ এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে আমিরাতে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী প্রবাসীরা তাদের সমস্যা সমাধানে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে: সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান (প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা), আরব আমিরাতে ফেরার ব্যবস্থা করা, অথবা অন্য কোনো দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এছাড়া, সমস্যা সমাধানে আমিরাত সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সংকট সমাধানে প্রবাসীরা সরকারকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তারা ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যবসায়িক ও পারিবারিক ক্ষতির দিকটি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছেন। সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশির চেয়ারম্যান এম এস শেকিল চৌধুরী মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে। তিনি বলেন, কাগজপত্রে ত্রুটি, ভিসা নবায়নে দেরি বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হতে পারে এমন যেকোনো বিষয় কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে। তবে এটিই ভিসা বাতিলের মূল কারণ কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজাদ বলেন, ই-মেইলে ভিসা বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সমস্যা সমাধানের দাবিতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে প্রায় ৩৫০ জন বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই অনুষ্ঠানে আসা অন্যরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারও ক্ষেত্রে আমিরাতে থাকা স্পন্সররাও এ বিষয়ে নোটিশ পেয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এখন আমরা বিপদে পড়ে সমাধানের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ ১৯৭৬ সাল থেকে আরব আমিরাতে কর্মী পাঠিয়ে আসছে।