অস্ট্রেলিয়া সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের স্বামী, স্ত্রী, সঙ্গী ও সন্তান নিয়ে বসবাসের সুযোগ কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সাথে অস্থায়ী অভিবাসীদের ভিসা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক অভিবাসন নীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন জানিয়েছে।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নিট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। মূলত আবাসন সংকট এবং অবকাঠামোর ওপর চাপ কমাতে সরকার এই কঠিন পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া বছরে নিট অভিবাসনের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার, যার অর্ধেকের বেশি ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। অথচ ২০২৩ সালে এই সংখ্যাটি সর্বোচ্চ ৫ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছেছিল এবং ২০২৪ সালে ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে করোনা-পরবর্তী সীমান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর থেকে দেশটিতে অভিবাসীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রী নির্দিষ্ট শর্তে কাজের সুযোগ পান এবং শিক্ষার্থীরা তাদের ১৮ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানদের সঙ্গে রাখতে পারেন। তবে নতুন নিয়মে পরিবার নিয়ে আসার এই সুযোগ বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে।
এদিকে অভিবাসন কমানোর দাবি অস্ট্রেলিয়ায় বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। কট্টর ডানপন্থি দল ওয়ান নেশন পার্টি চলতি সপ্তাহে আগামী তিন বছরে অস্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রাথমিক তিন বছর শেষে নিট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা বছরে ১ লাখ ৩০ হাজারে নামিয়ে আনা হবে এবং প্রতি বছর পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। সমালোচকদের মতে, বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর চাপের কারণে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন খাতের সংকট বাড়ছে এবং সামাজিক সংহতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা সরকারের সাম্প্রতিক এই কঠোর নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর আগে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো সরকারের নতুন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিক্ষার্থীদের পরিবারের সুযোগে পরিবর্তন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ধরন অনুযায়ী তাদের কাজের অনুমোদিত সময় ভিন্ন হয়ে থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দলটি বলেছে, এর মাধ্যমে অস্ট্রেলীয়দের জন্য ‘স্বস্তির জায়গা’ তৈরি হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কর্মসূচিটি প্রতি বছর পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে গত দুই বছর ধরে এই সংখ্যা কমার প্রবণতায় রয়েছে।