নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক-এর আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়েছে। সংগঠনের কার্যকরী কমিটির ২১টি পদের বিপরীতে চূড়ান্তভাবে লড়াইয়ে নেমেছেন ৪৩ জন প্রার্থী। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৩৫ হাজার ২১৫ জন নিবন্ধিত ভোটার। আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জানা যাবে আগামী তিন বছরের (২০২৭-২০২৯) জন্য কারা সংগঠনের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসাই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পরিষদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনী লড়াইয়ে মূলত মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন সেলিম-আলী পরিষদ এবং সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন কুনু-ফিরোজ পরিষদ। এই দুই পরিষদের মোট ৪২ জন প্রার্থীর পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মনোনয়নপত্র জমাদানের শুরুতে মোট ৪৪ জন প্রার্থী থাকলেও বাছাই ও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত লড়াইয়ে টিকে আছেন ৪৩ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে রাব্বী সৈয়দ এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শক্তি ডি গুপ্ত নাম জমা দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনারের দেওয়া তথ্যমতে, ভোটার তালিকায় প্রায় ৩০০ জনের মতো ডাবল ভোটার রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় গত ৬ সেপ্টেম্বর কুইন্স প্যালেসে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমার মধ্য দিয়ে। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর আপিল ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ শেষে ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গঠনতান্ত্রিক পরিবর্তনের ফলে এবার কার্যকরী পরিষদের সদস্য সংখ্যা ১৯ থেকে বাড়িয়ে ২১ করা হয়েছে। এছাড়া কমিটির মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের বলেন, এটি বাংলাদেশ সোসাইটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি সকল প্রার্থী ও ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করে জানান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে নতুন প্রজন্মের সামনে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ সোসাইটির ইতিহাসে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণের নির্বাচন এর আগে হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং যুব ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ নতুন দায়িত্ব যুক্ত হওয়ায় কার্যকরী পরিষদের পরিধি বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ বর্তমান নেতৃত্বই নতুন মেয়াদের জন্য ভোটারদের ম্যান্ডেট চাইছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই পরিষদের প্রার্থীরা হলেন-সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক হারুণ অর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ নওশাদ হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এ এস এম মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ হোসেন এবং যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কার্যকরী সদস্য পদে রয়েছেন মোহাম্মদ উজ্জ্বল পিপুল, শামীম আহমেদ, সারওয়ার খান বাবু, মোহাম্মদ এ মান্নান, মোহাম্মদ আব্দুল মালেক খান ও কাজী রবিউজ্জামান।