কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই সমাহিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে অনুমতি ও স্থান বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বিদ্যুৎ জানান, প্রশাসন যদি নির্ধারিত কোনো স্থানে সমাহিত করার অনুমতি দেয়, তবে সেখানে তাকে সমাহিত করা হবে। অন্যথায় পার্শ্ববর্তী কোনো কবরস্থানেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বন্ধুদের সঙ্গে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি এবং সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকারীদের ভাষ্যমতে, ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিন নামের এক তরুণকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামের আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি জানিয়েছেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, তবে তারা হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘তার মা-বাবার কুবি ক্যাম্পাসে দাফন করার বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তার মরদেহের সন্ধান মেলে।