বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বাজারে অস্থিরতা

Reporter Name / ৪১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগেই প্রায় দেড় মাস ধরে আটা ও ময়দার বাড়তি দামে চরম ভুগছিলেন ক্রেতারা। গত সপ্তাহে এই পণ্য দুটির দাম কেজিতে আরও ১০ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পরিবহন ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। এতে নতুন করে চালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় প্রতি কেজিতে পয়সার হিসাবে বাড়লেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি টাকার অঙ্কে। ভোক্তা অধিকারকর্মীদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

আটা ও ময়দার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

রাজধানীর নাখালপাড়া, মহাখালী, কলমিলতা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা ৭০ টাকা এবং ময়দা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দাম ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্য দুটির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে, বাজারে খোলা আটা কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ-ছয় দিনের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দার দামও কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা করে বেড়েছে।

মহাখালী কাঁচাবাজারের কে বি স্টোরের স্বত্বাধিকারী বিকাশ বণিক বলেন, এক থেকে দেড় মাস আগে আটা-ময়দার দাম বেড়েছিল। এখন আবারও নতুন করে দাম বাড়ানো হয়েছে। কোম্পানিগুলোর নতুন সরবরাহ করা দুই কেজির প্যাকেটজাত আটার গায়ে ১৪০ টাকা এবং ময়দার গায়ে ১৬০ টাকা খুচরা মূল্য লেখা রয়েছে। এছাড়া, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে প্যাকেটজাত আটার দাম ৪ শতাংশ এবং ময়দার দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে চালের বাজারে প্রভাব

আটা-ময়দার উচ্চমূল্যের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে চালের বাজারে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় মাসখানেক ধরে স্থির থাকা চালের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী ইসমাইল অ্যান্ড সন্সের বিক্রয়কর্মী মহিউদ্দিন বলেন, তারা সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১৫ টন চাল এনেছেন। দুই দিন আগে যেখানে ট্রাক ভাড়া ছিল ১৭ হাজার টাকা, এখন একই দূরত্বের জন্য দিতে হয়েছে ২১ হাজার টাকা। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি চালের জন্য পরিবহন ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় ২৭ পয়সা বেড়েছে। গাড়িভাড়া বাড়ায় চালের দাম না বাড়িয়ে তাদের কোনো উপায় নেই।

একই বাজারের মুক্তা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. শাহজাহান বলেন, পরিবহন ব্যয়ের কারণে চালের দাম প্রায় ৫০ পয়সা বাড়ার কথা। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তা খুচরা পর্যায়ে এক টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদিও এই নতুন দাম তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়নি, তবে শিগগিরই এর প্রভাব বাজারে পড়বে। এছাড়া মহাখালী কাঁচাবাজারের ইয়াসিন ট্রেডার্সের এক বিক্রয়কর্মী জানান, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট থেকে চাল আনতে আগে ছোট পিকআপে প্রায় দেড় হাজার টাকা ভাড়া লাগত। এখন আরও ২০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে, যা চালের দামের ওপর প্রভাব ফেলবে।

ক্যাবের উদ্বেগ ও অন্যান্য পণ্যের বাজার পরিস্থিতি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো নিয়ে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংস্থাটির সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে প্রতি কেজি পণ্যের পরিবহন খরচ হয়তো ১৫ থেকে ২৫ পয়সা বাড়তে পারে। কিন্তু এর অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি সুযোগ নিতে পারেন। সরকারের সঠিক তদারকি না থাকায় এর চূড়ান্ত প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়ে। তার মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পরিবহন থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, শুধু চাল নয়, ডিজেলের দাম বাড়ায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। কারওয়ান বাজারে পাইকারি দরে চিড়া, মুড়ি, খই ও গুড় বিক্রেতা মনির হোসেন জানান, বরিশাল থেকে ৩,২০০ কেজি হাতে ভাজা মুড়ি আনতে আগে ১৬ হাজার টাকা ভাড়া লাগত। এখন একই পরিমাণ মুড়ি আনতে ৩,০০০ টাকা বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের কারণে তার প্রতি কেজিতে প্রায় এক টাকা বেশি খরচ হচ্ছে, যা পাইকারি দামের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বর্তমানে বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি মুড়ি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্যতেল ও ডিমের সরবরাহ সংকট

চলতি মাসের শুরুতে বোতলজাত ভোজ্যতেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বেড়েছিল। এরপরও বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদার পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। মহাখালীর কে বি স্টোরের স্বত্বাধিকারী বিকাশ বণিক জানান, ভোজ্যতেল কোম্পানির ডিলাররা আরও দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং এ কারণে তারা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। এদিকে গত দুই মাস ধরে ডিমের বাজারও চড়া। পশ্চিম নাখালপাড়ার মা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম জানান, ট্রাক ভাড়া বাড়ায় পাইকাররা ডিমের দাম কিছুটা বাড়ানোর কথা বলেছেন। গতকাল তিনি প্রতি ডজন বাদামি রঙের ফার্মের ডিম ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

সুপারিশ ও বাজার তদারকি

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই সব পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়বে—বিষয়টি এমন নয়। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে গ্রাম থেকে ঢাকায় সবজি আনতে কত পয়সা অতিরিক্ত খরচ হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা দরকার। এরপর কৃষি, খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাজার তদারকি করতে পারে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে পণ্যের দামে সামান্য যে প্রভাব পড়ার কথা, কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব পড়ছে বলে তারা জানতে পারছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরিবহন ভাড়া কেজিতে ২৫ পয়সা বাড়লে সেই অজুহাতে পণ্যের দাম দ্বিগুণ বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি বাজারে নজরদারি আরও কঠোর করা হবে বলে তিনি জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আয় ও ব্যয়ের সমন্বয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সামান্য লাভ হওয়ায় তারা গায়ের দামেই পণ্য বিক্রি করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে চারটি ডিম কিনলে দাম রাখা হয়েছে ৫৫ টাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাজারে প্রতি কেজি মালটা ও কমলা ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, আপেল ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং লাল আঙুর ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা