ফেডারেশন কাপে বড় ধাক্কা খেল ১২ বারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড। মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নবাগত চট্টগ্রাম সিটি ক্লাবের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে প্রথমবার অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম সিটির জন্য এই ফলাফল বেশ স্বস্তিদায়ক। বিশেষ করে বাংলাদেশ ফুটবল লীগে (বিএফএল) নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ফর্টিস এফসির কাছে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর এমন ড্র তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ে। ৫৩ মিনিটে নাজমুল হুদা ফয়সালের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আবাহনী। তবে সেই লিড দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ওনরেবে রাফায়েল গোল করে চট্টগ্রাম সিটিকে সমতায় ফেরান। ৩৩ বছর বয়সী এই তারকার গোলের পর বাকি সময়ে কোনো দলই আর জয়সূচক গোল করতে পারেনি। গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষে দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে লড়াই। তবে বেশিক্ষণ সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি আকাশি-নীলরা।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় চট্টগ্রাম সিটির খেলোয়াড় মেহেদি হাসান মিঠু বলেন, আলহামদুলিল্লাহ গত ম্যাচের তুলনায় এবার আমরা অনেক ভালো খেলেছি। আশা করছি সামনের ম্যাচে আরও উন্নতি করতে পারবো। আবাহনী সব সময়ই শক্তিশালী দল, তবে আমাদের লক্ষ্য হলো লীগ টেবিলে সেরা তিন-চারের মধ্যে অবস্থান নিশ্চিত করা। আশা করি, নেক্সট ম্যাচে আরো উন্নতি করবো।
উল্লেখ্য, এই ম্যাচটি ২২শে সেপ্টেম্বর ফেডারেশন কাপের উদ্বোধনী দিনে হওয়ার কথা থাকলেও আবাহনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাফুফে দুই দফা সূচি পরিবর্তন করেছিল। মৌসুমের শুরুতে দল গঠন নিয়ে জটিলতায় পড়া আবাহনী ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্কোয়াড সাজানোর পর প্রস্তুতির জন্য মাত্র দুই দিন সময় পেয়েছিল। সেই ঘাটতি ছিল প্রথম রাউন্ডের পারফরম্যান্সেও। শেখ মোরসালিন ও মিতুল মারমাকে ছাড়াই পিডব্লিউডির বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল মারুফুল হকের দল। ফেডারেশন কাপেও পূর্ণ শক্তির দল না পাওয়ায় জয়হীন থাকতে হলো তাদের। ‘এ’ গ্রুপে আবাহনীর সঙ্গে থাকা বাকি দলগুলো হলো ফর্টিস এফসি, রহমতগঞ্জ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও ফকিরেরপুল। শিরোপা জয়ের মিশনে থাকা আবাহনী প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়ে প্রতিযোগিতায় কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়লো। এর প্রভাব পড়েছিল লীগের প্রথম রাউন্ডে।