রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রকে দাপ্তরিকভাবে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যান্য আসামিদের ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, তারা যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হন, তবে সেটি ইতিবাচক। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। তবে দেশের বাইরে থেকে বারবার ফিরে আসার আওয়াজ তুলে লুকায়িত নেতাকর্মীদের মধ্যে কৃত্রিম প্রাণের সঞ্চার করার যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা সরকারের নজরে রয়েছে।
দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, যারা মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ১৪০০ নাগরিকের প্রাণহানির জন্য দায়ী, তারা রাজনৈতিক অধিকারের দাবি জানাতে পারেন না। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছরের হিসাব বাদ দিলেও ৭ হাজারের বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং কাস্টোডিয়াল মৃত্যুর দায় যাদের ওপর, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। আসমান থেকে গুলিবর্ষণ করে কিংবা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে যারা গণতন্ত্রহীনতা তৈরি করেছিল, তাদের কাছ থেকে ক্ষমা বা দুঃখপ্রকাশের কোনো নজির পাওয়া যায়নি। তবুও তারা বিদেশে বসে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চান, যারা এ দেশে ১৪০০ নাগরিককে হত্যা করেছেন এক মাসের মধ্যে; ১৫ বছরের হিসাব নাইবা দিলাম, ৭ হাজারের ওপরে ছিল বিচারবহির্ভুত কিলিং, যেটা পারসিকিউশন হয়েছে, এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স হয়েছে, কাস্টোডিয়াল ডেথ। যারা এক মাসে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করতে পারেন, আসমান থেকেই গুলি করে যাদেরকে, দেশের নাগরিককে হত্যা করতে পারেন, বাংলাদেশের সমস্ত ইনস্টিটিউশনকে ধূলিসাৎ করে এ দেশকে গণতন্ত্রহীন একটা রাষ্ট্র বানিয়ে ফেলতে পেরেছিল, সেই শক্তিকে বাংলাদেশের মানুষ কি কখনো আহ্বান জানাবে। বাংলাদেশের মানুষ নাকি তাদেরকে রাজনীতির জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। আমরা তো তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’।
পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী সপ্তাহে একটি আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। এর জন্য একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে শক্তিশালী কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ইউনিটের শাখা থাকবে এবং বড় ধরনের ফরেনসিক ল্যাবের সুবিধা যুক্ত করা হবে। জটিল সাইবার অপরাধের তদন্তে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং সাধারণ তদন্তগুলো স্থানীয় পর্যায়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার জন্য হেডকোয়ার্টারে একজন অ্যাডিশনাল আইজিপির পোস্ট যদি ক্রিয়েটেড থাকে ভালো, না হলে আমরা ক্রিয়েট করব।
উল্লেখ্য, পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্ব, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত ও সেবায় অনন্য নজির স্থাপনের স্বীকৃতি হিসেবে ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।