বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি

দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

Reporter Name / ৪৯ Time View
Update : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে পুলিশের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের সহিংস দখলবাজি, কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষের আহত হওয়া এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে হামলার মতো ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ড বর্তমান সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি বড় অশনিসংকেত। এসব ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সারাদেশে দলের ভেতরে আত্মশুদ্ধি অভিযানের জোর দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তৃণমূলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দলটির অনেক নেতাকর্মী বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন, যা গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি অধিকতর স্বাভাবিকতা লাভ করায় উক্ত ঘটনাগুলো ঘটছে, যা সরকারের জন্য অশনিসংকেত।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান রাড্ডা এমসিএইচ-এ হামলার উদাহরণ টেনে বলেন, একজন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে যেভাবে অর্ধশত বছর ধরে সেবাদানকারী একটি দাতব্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে, তা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের পর সাধারণ মানুষ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিবেশের অপেক্ষায় ছিল। সেখানে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে নতুন করে হতাশার জন্ম দিচ্ছে। বিগত সরকারের স্বেচ্ছাচারী আচরণের স্মৃতি এখনো জনগণের মনে সতেজ, তাই বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখা প্রয়োজন। রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্বপরায়ন চোরতন্ত্রের পতনের প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক নির্বাচনের জনরায়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের নেতাকর্মীদের এ জাতীয় কর্মকাণ্ড দেশবাসীর কাছে কী বার্তা দিচ্ছে। এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিএনপির নীতি-নির্ধারকগণ দলীয় নেতাকর্মীদের উল্লেখযোগ্য অংশের চলমান দখলবাজি ও চাঁদাবাজির পরিণতি ভেবে দেখছেন কী।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, গত আগস্ট মাস থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ উঠছে। আওয়ামী সরকারের পতনের পরপরই ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার মতো প্রধান শহরগুলোর ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল এবং বর্জ্য সংগ্রহের মতো লাভজনক খাতগুলো দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অনেকে। এমনকি ইন্টারনেট ও ক্যাবল সংযোগ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও সহিংসতা বাড়ছে। সরকারের একজন মন্ত্রীর ‘চাঁদাবাজি দুর্নীতি নয়, সমঝোতার লেনদেন’ এমন বিতর্কিত মন্তব্যের পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে টিআইবি মনে করে। দৈনিক, মাসিক ও এককালীন চাঁদাবাজির এই অপতৎপরতা শুধু চলমান থাকেনি, বরং সরকারের একজন মন্ত্রী যখন ‘চাঁদাবাজি দুর্নীতি নয়, সমঝোতার লেনদেন’ মর্মে একাধিকবার ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে তার এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

কিশোরগঞ্জের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চলে আসা ধারাবাহিকতারই অংশ। সরকারের সদিচ্ছা ও ভালো উদ্যোগগুলো এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। যদি এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা আর সম্ভব হবে না। অতীতে বিভিন্ন সময় এমন অনিয়ম বাড়তে বাড়তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে, যা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয় ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারের মতো ঘটনা ঘটলেও, মূলত সরকারি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও স্বেচ্ছাচারিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে তার দায়ভার শেষ পর্যন্ত সরকারকেই নিতে হবে। তাই প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা