বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘটনার তদন্তে পুলিশ আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে এলপিজির দাম ও চার্জ না বাড়াতে ক্যাবের দাবি উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাই হাট: জমে উঠেছে পঞ্চগড়ের দেবদারুতলা ইরানের হুমকি দূর করতে শক্তিশালী ডানপন্থি সরকারের আহ্বান নেতানিয়াহুর

রাজধানীতে বেপরোয়া চাঁদাবাজ: অভিযানে ধরা পড়ছে না অস্ত্রধারীরা

Reporter Name / ৫৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানী ঢাকায় চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ফুটপাত, মুদির দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাসপাতাল ও কলকারখানা—সর্বত্রই চাঁদাবাজদের আধিপত্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরের ৫০টি থানার মধ্যে ৪৯টিতেই চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে ৭২৩টি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ঘটনার সত্যতা খুঁজে পেয়েছে এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে চার্জশিট বা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। তবে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হতে বছরের পর বছর পার হয়ে যাচ্ছে। শুধু অভিযোগই নয় অনেক ভুক্তভোগী থানায় মামলাও করছেন। এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলার ৮৫ শতাংশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ঢাকার ৫০টি থানার চাঁদাবাজি ও দখলসংক্রান্ত মামলার তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমনই চিত্র। নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২০ মাসে মহানগরে চাঁদাবাজির ৩৬৫টি মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। আর ১৫ শতাংশ মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যৌথ গোয়েন্দা পর্যালোচনায় রাজধানীতে ১ হাজার ২৮০ জন চিহ্নিত চাঁদাবাজের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকায় চাঁদাবাজদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতাদের নামও অন্তর্ভুক্ত আছে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, এই তালিকায় থাকা চাঁদাবাজদের মধ্যে ১৪৮ জন সরাসরি অস্ত্রধারী। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদাবাজরা এখন অত্যন্ত কৌশলী হয়ে উঠেছে। তারা আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে অনেক ক্ষেত্রে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে। যেহেতু ১৮ বছরের কম বয়সীদের বিচার প্রক্রিয়ায় বিশেষ ছাড় রয়েছে, তাই চিহ্নিত চাঁদাবাজরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের এক পরিসংখ্যানে ঢাকায় প্রায় ১২৮০ জন চিহ্নিত চাঁদাবাজদের নাম উঠে এসেছে।

মামলা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড হয়েছে মোহাম্মদপুর থানায়। এর পরেই রয়েছে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা। মোট ৭২৩টি মামলার মধ্যে ৪২৫টির তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, বাকি মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। চাঁদাবাজির ঘটনায় সাধারণ মানুষ প্রাণনাশের ভয়ে প্রায়ই থানায় অভিযোগ করতে চায় না, ফলে প্রকৃত অপরাধের তুলনায় মামলার সংখ্যাও কম। অথচ প্রতিটি থানা এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মুখকে অপরাধের জগতে যুক্ত করছে। তদন্তাধীন রয়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ মামলা।

পুলিশের তালিকায় থাকা অস্ত্রধারী চাঁদাবাজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—শামীম, জাকির হোসেন, আবুল বাশার বাদশা, কায়সার ওরফে গলাকাটা কায়সার, মহারাজ মিয়া, শফিকুল ইসলাম হেলাল, তানভীর, আরিফ হোসেন রিপন, আবু সাঈদ রাসেল, কাওসার মোল্লা ওরফে কানা কাওসার, সায়মন, বরিশাইল্যা শান্ত, নাহিদ, মামুন, রাব্বী, মিনহাজ, আরিফ ওরফে পিস্তল আরিফ ও শুভ ওরফে ঘাতক শুভ। এছাড়াও সুব্রত বাইন গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে মাহফুজুর রহমান ওরফে বিপু, আরাফাত ইব্নে নাসির, শরীফ ও মধুর নাম রয়েছে। তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও ফেন্সি বাশার, শুটার নয়ন ও বাপ্পীর মতো অপরাধীরাও সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসার অন্যতম কারণ হলো বাছাইমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। তিনি বলেন, পুলিশ দীর্ঘ সময় নিয়ে তালিকা তৈরি করলেও, তালিকাভুক্ত সবাইকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। কেউ গ্রেপ্তার হচ্ছে, আবার কেউ ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। এই ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট তালিকা থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে।

চকবাজার এলাকায় মো. সালাউদ্দিন ওরফে বিয়ার সালাউদ্দিন ও হাসান সারোয়ার পিলুর মতো অপরাধীরা সক্রিয় রয়েছে। সবুজবাগ এলাকায় রিফাতুল্লাহ নাঈম, হৃদয় সরকার, মো. সাঈদ, শফিকুল ইসলাম ও নুরুন্নবী বাবুর মতো অস্ত্রধারীরা চাঁদাবাজি পরিচালনা করছে। একইভাবে খিলগাঁও এলাকায় মকবুল হোসেন, মিন্টু ওরফে কিলার মিন্টু, আলিফ ও শুভ ওরফে রিপনের দাপট রয়েছে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করায় অপরাধীরা সহজেই তাদের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ ছাড়া এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা