মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল চালডালের যশোর অফিস মাদুশাঙ্কার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা আইজিপির বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করবে: রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত বাগান করলে কমে মৃত্যুঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ আইজিপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: জাহেদ উর রহমান রাজবাড়ীতে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী নেতা, হামলাকারী শনাক্ত

নেতৃত্বে তরুণ ও অভিজ্ঞের ভারসাম্য আনতে সতর্ক বিএনপি

Reporter Name / ৪৬ Time View
Update : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকায় দলীয় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের সামনে আনার লক্ষ্যে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, রাজধানীকে এখন সাংগঠনিক অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে রাখা হয়েছে। কারণ, সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সমন্বয় করতে এই দুই ইউনিটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রূপপুরের পথে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান। নারীর কর্মজীবনে বড় অন্তরায় সন্তানের জন্য ডে-কেয়ার সংকট। দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় যেসব নেতা ভূমিকা রেখেছেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যাদের পারফরম্যান্স ভালো এবং জনগ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, নতুন নেতৃত্বের জন্য তাদের কয়েকজনকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কেবল বিতর্কহীন ভাবমূর্তিই নয়, বরং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, জনগ্রহণযোগ্যতা ও তৃণমূলের সাথে গভীর সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলের কঠিন সময়ে সক্রিয় ছিলেন এবং বিতর্কের বাইরে থেকে কাজ করেছেন, এমন নেতাদের এবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অভিজ্ঞ সংগঠকদের পাশাপাশি সাবেক ছাত্র ও যুবনেতাদের মধ্যে তুলনামূলক তরুণদেরও নেতৃত্বে আনার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এশিয়ান গেমস / খর্বশক্তির শ্রীলঙ্কার কাছে বড় হার, ব্রোঞ্জও পেল না বাংলাদেশ। বন্যা ঝুঁকি কমাতে ৪ হিমবাহ হ্রদের পানি কমাবে নেপাল। দলের কঠিন সময়ে সক্রিয় থাকা এবং বড় ধরনের বিতর্ক এড়িয়ে চলা নেতারা গুরুত্বপূর্ণ পদে অগ্রাধিকার পেতে পারেন।

সম্প্রতি বেশ কিছু সাংগঠনিক পদক্ষেপের পর নেতৃত্ব পুনর্গঠনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে। তার বিরুদ্ধে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এর ঠিক আগের দিনই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করে দল। এ ছাড়া সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মোট ১৪ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় তার কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, এইসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে কাদের রাখা হবে, সে বিষয়ে হাইকমান্ড অনেক বেশি সতর্ক হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারলে তৃণমূলেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাচ্ছে, এসব ইউনিটে এমন নেতৃত্ব আসুক যারা শুধু জনপ্রিয় প্রার্থী নয়, বরং নির্বাচনের সময় প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় কর্মীদের সংগঠিত করতে সক্ষম হবে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েও বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। গত জুলাই মাসে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রতিটি এলাকায় সমঝোতার মাধ্যমে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারিতে ভোট শুরু হতে পারে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় গতি বাড়ানো হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি নতুন কমিটিতে তৃণমূলের কর্মীদের সক্রিয় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা যাতে নিজেদের বঞ্চিত মনে না করেন বা দল থেকে দূরে সরে না যান, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় নিবেদিত কর্মীদের অসন্তোষ ভোটের ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে নিবেদিত ও যোগ্য নেতাদের উঠে আসার পথ প্রশস্ত হতে পারে, তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন তৃণমূলের কর্মীদের মাঝে হতাশা তৈরি না হয় সে ব্যাপারে সতর্কতা প্রয়োজন। উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিটের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতার ভিন্নতার কারণে নেতৃত্বের ধরনে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে, তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সংগঠনের কর্মীদের সক্রিয় রাখার মৌলিক মানদণ্ড সব ক্ষেত্রেই অভিন্ন থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা