নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিলের মৃত্যুর পরপরই তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম। তবে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে তার সংশ্লিষ্টতা বা এই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শাকিলের মৃত্যুর খবরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার বিচার ও দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে হেলমেট পরিহিত দুই ব্যক্তি শাকিলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা সে সময় দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং শাকিল পালানোর চেষ্টা করলে শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় কাচারিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে শাকিল ইসলামকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা সম্ভব হচ্ছে না, তবে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।