বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name / ৫৮ Time View
Update : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

শনিবার আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনফারেন্স-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেকোনো মূল্যে সুরক্ষিত রাখতে হবে। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনসেবায় নিয়োজিত করার প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রীয় সেবার সুফল পুরোপুরি পাবে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখানেই হতে হবে। এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। পাশাপাশি এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করাও জরুরি; যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই সমুদ্র আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। মৎস্যসম্পদ, জ্বালানি, পর্যটন ও আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনের মতো খাতে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা জরুরি।

বাণিজ্য, শিক্ষা, জলবায়ু ও প্রযুক্তির মতো খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বাজার উন্মুক্ত করার মাধ্যমে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। পরিশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাবে, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র পারস্পরিক সমান সুবিধা ভোগ করবে এবং একটি শান্তির বলয় গড়ে উঠবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা