ঢাকার আদাবর থানার গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে। রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য রোববার দিন নির্ধারণ করেছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাজী হাবিবুল আউয়াল বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিইসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও এজাহারনামীয় গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়। কোথাও বের হতে হলে তাকে সর্বদাই পুলিশ ঘিরে রাখত। এই ঘটনার সময় তিনি চাকরিরত অবস্থায় ছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনে এবং বিগত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে হাবিবুল আউয়াল প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন। নির্বাচন কমিশনকে কলুষিত করার অভিযোগ তুলে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজনীয় ছিল।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস এই গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে যুক্তি দেন যে, হাবিবুল আউয়াল তার কর্মজীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, এই আসামি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে লুটপাটের পথ তৈরি করেছেন, তাই তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। শেখ হাসিনার অবৈধ ভোটকে বৈধতা দিয়েছেন এই আসামি। শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালানোর আগে তার নেতা–কর্মীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে মিটিংয়ে বসেছিলেন। কীভাবে এই আন্দোলনকে দমানো যায়, তার নির্দেশনাও দিয়েছেন এই আসামি।
উল্লেখ্য, রুবেল হত্যা মামলাটি করা হয় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে আদাবর থানার রিংরোড এলাকায় ছাত্র-জনতার প্রতিবাদী মিছিলে পুলিশসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা গুলি চালায়। এ ঘটনায় নিহত রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে গত বছরের ২৫ জুন জনগণের ‘ভোট ছাড়া’ নির্বাচন ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে হওয়া মামলায় হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবির একটি দল। তখন তাকে তিন দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েকশ’ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানার রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। এই প্রটোকলের মধ্যে থেকে তার এই ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করা মোটেই সম্ভব নয়।