বলিউড ও মারাঠি সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। আজ বৃহস্পতিবার গোয়ায় ৭৫ বছর বয়সে তিনি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে তিনি কখনো গ্যাংস্টার, কখনো পুলিশ, কখনো বাবা, আবার কখনো খলনায়কের চরিত্রে নিজেকে ভেঙে গড়েছেন। তার এই প্রস্থান ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ, লাঠিচার্জের অভিযোগ। ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা সোমবার: ইসি। খলনায়ক হলেও চরিত্রটিকে গতানুগতিকভাবে তুলে ধরেননি তিনি।
ফিল্মফেয়ারের তালিকা অনুযায়ী, নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারের ১০টি অন্যতম স্মরণীয় কাজ নিয়ে ফিরে দেখা যাক তার অসামান্য যাত্রা। বিদু বিনোদ চোপড়ার ‘পারিন্দা’ সিনেমায় আন্না চরিত্রে তিনি যে ভয়ের আবহ তৈরি করেছিলেন, তা আজও বিরল। অন্যদিকে ‘আঙ্গার’ সিনেমায় মজিদ খান চরিত্রে ঠাণ্ডা মাথার গ্যাংস্টার হিসেবে অভিনয় করে তিনি প্রথমবার ফিল্মফেয়ারে সেরা খলনায়কের পুরস্কার অর্জন করেন। কুয়াকাটায় ‘পেট্রোলের রঙের’ পানি নিয়ে পর্যটকদের উদ্বেগ।
‘ক্রান্তিবীর’ সিনেমায় প্রতাপ নারায়ণ তিলকের চরিত্রে তার সংলাপ ও ক্ষুব্ধ অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে; এই কাজের জন্য তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এছাড়া রক্ষণশীল স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি নাটকীয়তা ছাড়াই চরিত্রের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছিলেন। শান্ত ও স্বাভাবিক অভিনয়ের মধ্যেই আন্নার ভয়ংকর দিকটি ফুটিয়ে তুলেছিলেন। খুব বেশি চিৎকার বা নাটকীয়তা ছাড়াই তিনি চরিত্রটির ভয়ংকর দিক তুলে ধরেন। কঠোরতার পাশাপাশি চরিত্রটির ভেতরের বাবাকেও তুলে ধরেছিলেন তিনি।
পারিবারিক ঘরানার সিনেমায় নারসিংহ চরিত্রে নানা ছিলেন কঠোর অথচ স্নেহশীল। ‘আব তক ছাপ্পান’ সিনেমায় অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা সাধু আগাশের চরিত্রটি তার অভিনয়ে এক অন্য মাত্রা পায়, যেখানে তিনি অপরাধী দমনে ক্লান্ত ও হতাশ এক কর্মকর্তার যন্ত্রণা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
কমেডি ঘরানার ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় উদয় শেঠি চরিত্রে নানা পাটেকরের অভিনয় আজও দর্শকদের মুখে হাসি ফোটায়। অপরাধী হয়েও ভদ্রভাবে জীবন কাটানোর বাসনা এবং তার হাবভাব সিনেমাটির বড় আকর্ষণ ছিল। এছাড়া প্রকাশ ঝার ‘রাজনীতি’ সিনেমায় ব্রিজ গোপাল চরিত্রে তার ধূর্ত ও কৌশলী অভিনয় ছিল লক্ষ্য করার মতো।
২৬/১১ মুম্বাই হামলা নিয়ে নির্মিত সিনেমায় তদন্তকারী কর্মকর্তার চরিত্রে নানা পাটেকরের সংযত অভিনয় সেই ভয়াবহ ঘটনার শোক ও ভারকে দর্শকের সামনে জীবন্ত করে তুলেছিল। সবশেষে মারাঠি সিনেমা ‘নটসম্রাট’-এ অবসর নেওয়া মঞ্চ অভিনেতা গণপতরাও বেলভালকরের চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক জয় নিয়ে পড়ে থাকতে চান না শান্ত।
পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই ছিল প্রতিটি চরিত্রের আলাদা রূপায়ণ। তার কণ্ঠস্বর, চোখের ভাষা এবং অভিনয়ে ছিল নিজস্ব এক স্বাক্ষর। তার মৃত্যুতে বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতিময় চরিত্র, যা দর্শকদের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে।