বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল চালডালের যশোর অফিস মাদুশাঙ্কার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা আইজিপির বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করবে: রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত বাগান করলে কমে মৃত্যুঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ আইজিপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: জাহেদ উর রহমান

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদায়ন দাবি: ১১ অক্টোবরের আল্টিমেটাম

Reporter Name / ৫৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের তারিখ বারবার পরিবর্তন করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ ব্যাচ’-এর ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষকরা আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের পদায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি পূরণ না হলে জেলা শিক্ষা অফিসগুলোতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুমকি দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘ আট মাস বেকারত্বের যন্ত্রণা এবং নিয়োগ পাওয়ার পরও অনিশ্চয়তা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। নিয়োগপ্রক্রিয়া সফল করতে এর আগে শাহবাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে তিন দফায় কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করেও সমাধান মেলেনি।

শিক্ষকদের অভিযোগ, গত ২ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে ১ অক্টোবর যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়নের নির্দেশনা ছিল, যা পিআইডির মাধ্যমেও প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবরের পরিবর্তে পদায়নের তারিখ ১১ অক্টোবর পুনঃনির্ধারণ করা হয় এবং পাঁচ দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে চরম অব্যবস্থাপনা ছিল, এমনকি অধিকাংশ স্থানে সরকারি বরাদ্দহীনতায় খাবারের কোনো ব্যবস্থাও ছিল না। এরপরেও ব্যক্তিগত অর্থ ও শ্রম ব্যয়ে শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ শেষ করেন। সরকারি তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) মাধ্যমেও বিষয়টি প্রচার করা হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে বিদ্যালয় শাখা-২ থেকে পদায়নের তারিখ আবারও ১১ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ১৮ অক্টোবর করা হয়। একইসঙ্গে প্রশিক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, একই ব্যাচের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কেন বারবার সিদ্ধান্ত বদলানো হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ে পদ খালি থাকা সত্ত্বেও কেন পদায়ন আটকে রাখা হয়েছে? সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মাগুরার মতো কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে পদায়ন হলেও অন্য জেলাগুলোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমন্বয়হীনতার মূল্য ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান এবং সনদ বিতরণও হয়েছে।

এই অচলাবস্থা নিরসনে শুক্রবার থেকে দেশের ৬১ জেলার সকল উপজেলায় ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে আগামী শনিবার দুপুর ২টায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ন্যায্য কর্মস্থলে যোগদানের অধিকার আদায়ে এই আন্দোলন। ১১ অক্টোবরের মধ্যে পদায়ন না পেলে ওইদিন সকাল ১০টা থেকে প্রতিটি জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে দ্রুত বিদ্যালয়ে গিয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ চান নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা