সময়ের স্রোতে অভিনেতা মোশাররফ করিমের জীবনের দৃশ্যপট অনেক বদলেছে, বেড়েছে কাজের ব্যস্ততাও। তবে থিয়েটারের সেই শুরুর দিনগুলো, বন্ধুদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা এবং একসঙ্গে পথ চলার স্মৃতি আজও তার কাছে অমলিন। সম্প্রতি এক আড্ডায় তিনি ফিরে গিয়েছেন নিজের ফেলে আসা সেই সোনালি দিনগুলোতে। মোশাররফ করিম জানান, আড্ডা দিতে তিনি সব সময়ই ভীষণ পছন্দ করেন। থিয়েটারের শুরুর দিকে অঢেল আড্ডায় সময় কাটাতেন, এখনো সুযোগ পেলে আড্ডায় মেতে ওঠেন। তবে তার মতে, আগের আড্ডার সেই প্রাণ আর এখনকার আড্ডায় খুঁজে পাওয়া যায় না; সেই মধুর সময়গুলো যেন এক অদ্ভুত সৌন্দর্যে ঘেরা ছিল। শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের ধাক্কা শ্রেণিকক্ষে।
সেই আড্ডার কথা মনে হলেই মোশাররফ করিমের হৃদয়ে ভেসে ওঠে প্রয়াত ছড়াকার ওবায়দুল গণি চন্দনের কথা। বন্ধু চন্দনকে দারুণভাবে মিস করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, চন্দন আড্ডা জমানোর ওস্তাদ ছিলেন। তাদের একসঙ্গে পথ চলার শত শত স্মৃতি এবং চন্দনের ছড়ার অনন্য মুগ্ধতা এখনো তাকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে অভিনেতা ফজলুল কবীর তুহিন এবং গীতিকার ও ছড়াকার বাকীউল আলমের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। মোশাররফ করিম অকপটে স্বীকার করেন, সেই সময়ে এতটা ব্যস্ততা আসবে তা তাদের কল্পনাতেও ছিল না। আর চন্দন যে এত দ্রুত পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন, তা ছিল অচিন্তনীয়। ভারত প্রস্তাব দিলে পুনরায় চালু হতে পারে মৈত্রী এক্সপ্রেস। কত দিন যে আমি আর চন্দন আড্ডা দিয়েছি, তার হিসাব নেই।’। পেছনের জীবনে তাকালেই সেই সোনালি দিনের কথা মনে পড়ে।
তারিক আনাম খানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নাট্যদল ‘নাট্যকেন্দ্র’-এর সদস্য হিসেবে থিয়েটারের শুরুর দিকে তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তখন খিলগাঁওয়ে থাকতেন এবং মঞ্চনাটকের প্রয়োজনে বাসা থেকে হেঁটে বেইলি রোডে দলের কার্যালয়ে যেতেন। থিয়েটারের সেই দিনগুলোতে দলের জন্য অনেক কাজ করতে হতো যা তিনি ভালোবাসা থেকেই করেছিলেন। এমনকি যে মানুষটি কখনো বাড়ির বাজার বা অন্য কোনো কাজ করেননি, তিনিও নাটকের প্রয়োজনে অনেক পরিশ্রম করেছেন।
একবার একটি নাটকের সম্মানি বাবদ ২০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ভুলবশত তিনি ৪০ হাজার টাকা পেয়ে যান। বিষয়টি খেয়াল করার পর তিনি টাকা ফেরতের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজতে থাকেন। পরে জানতে পারেন অপর পক্ষও তাকে খুঁজছে। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি ২০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে তিনি বড় স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা গুনে দেখেন, পেয়েছেন ৪০ হাজার।
অভিনয়ের বাইরে মোশাররফ করিমের আরেকটি বড় জগৎ হলো বইয়ের জগত। গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি কবিতা পড়ার প্রতিও তার গভীর টান রয়েছে। তবে তিনি জানান, লেখার চেয়ে কবিতা পড়তেই বেশি ভালোবাসেন। বর্তমানে তিনি মিহির সেনগুপ্তের ‘সিদ্ধিরগঞ্জের মোকাম’ বইটি পড়ছেন। এছাড়া কথাসাহিত্যিক রশীদ করিমের ‘উত্তম পুরুষ’ এবং শওকত আলীর উপন্যাসগুলো তার প্রিয় তালিকায় রয়েছে।
কবিতার প্রতি ভালোবাসার জায়গা থেকে তিনি কবি জয় গোস্বামীকে তার সবচেয়ে প্রিয় কবি হিসেবে উল্লেখ করেন। কয়েক বছর আগে জয় গোস্বামী তাকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন, যা বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বড় মাপের একজন কবির কাছ থেকে পাওয়া এই সম্মান ও ভালোবাসার বিষয়টি মোশাররফ করিমের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি এবং স্মরণীয় ঘটনা। সব মিলিয়ে ফেলে আসা জীবনের সেই আড্ডা ও বইয়ের সান্নিধ্যের দিনগুলোকে তিনি আজও ভীষণ মিস করেন। ব্লেন্ডারস চয়েস- ওটিটি অ্যাওয়ার্ডস / দেশের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল কনটেন্ট পুরস্কারের পঞ্চম আসর আজ, মনোনয়ন পেলেন যারা।