চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম গত সোমবার দুপুর থেকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। গতকাল সকাল ৯টার দিকে তিনি মাইক্রোবাসযোগে ক্যাম্পাসে পৌঁছে তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন। এরপরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। ফলে গত ২০ দিন ধরে ক্যাম্পাসে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের প্রধান গেট খুলে দিলে সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় উপাচার্য বুকে ব্যথা ও মাথাব্যথার কথা জানিয়ে চিকিৎসা সহায়তা কামনা করেন। এর প্রেক্ষিতে মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. শাহাবুদ্দিনসহ একটি দল তার বিশ্রামকক্ষে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। ডা. শাহাবুদ্দিন জানান, উপাচার্যের পালস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক (১২০/৮০) এবং তিনি হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন আছে এমন কথা বলেননি। তার মতে, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তিনি কেবল অস্বস্তিবোধ করছেন। ডেঙ্গু: ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৫৪। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য, স্বাস্থ্য নিয়ে ২ চিকিৎসকের ভিন্ন বক্তব্য। এ পরিস্থিতিতে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ডা. শাহাবুদ্দিন আরও বলেন, ‘তিনি সুস্থ আছেন, তার কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। তিনি আগে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খেতেন।’।
অন্যদিকে, দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. টিপলু কান্তি দে সেখানে পৌঁছান। তিনি পরীক্ষা করে উপাচার্যের উচ্চ রক্তচাপ (১৫০/১০০) পান এবং জানান যে তিনি শরীরের বাঁ পাশে ব্যথা অনুভব করছেন। উপাচার্য তার কাছে হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। দুই চিকিৎসকের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় পুনরায় উভয়কে ডেকে পরীক্ষা করানো হয়, তবে তারা নিজ নিজ অবস্থানেই অটল থাকেন। এ সময় গেটের সামনে হাতে মাইক নিয়ে প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। উপাচার্যের দোতলার বিশ্রামকক্ষের দরজায় তারা বেশ কয়েকবার ডাকাডাকির পর তিনি দরজা খোলেন।